‘ভয়মুক্ত সমাজ গড়তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিকল্প নেই’—পুলিশ সপ্তাহে তারেক রহমান

দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে, রাষ্ট্র ও সমাজে শান্তি-স্বস্তি বজায় রাখতে পুলিশ বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় উল্লেখ করেন, দেশের মানুষ এখন গুম, অপহরণ আর ভয়ের সংস্কৃতিমুক্ত একটি রাষ্ট্র ও সমাজ দেখতে চায়। তিনি বলেন, “জনগণ এমন একটি রাষ্ট্র চায় যেখানে জানমালের নিরাপত্তা থাকবে, কোনো অবিচার বা নির্যাতন-নিপীড়নের ভয় থাকবে না। আর এই প্রত্যাশিত পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকাই সর্বাধিক।”

পুলিশের প্রতি জনগণের হারানো বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ বাহিনীর কোনো বিকল্প নেই। তবে পুলিশ যদি জনগণের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করতে পারে, তবে তাদের দায়িত্ব পালনের পথ আরও সহজ ও সুগম হবে।” তিনি পুলিশ সপ্তাহকে জনগণের বিশ্বস্ত হয়ে ওঠার অঙ্গীকার পূরণের একটি বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও ন্যায়ভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে কাজ করছে। তবে জনমনে শান্তি ও নিরাপত্তা না থাকলে এই লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব। তিনি বলেন, “পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই এই মুহূর্তে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।”

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে উপযুক্ত ও অনুকূল পরিবেশে আমাদের পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সক্ষম। এ ছাড়াও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের সাফল্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের এই গৌরবোজ্জ্বল অবদান বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।

পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পুলিশের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং এবং মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। পুলিশের উন্নয়নে বিনিয়োগ করা মানেই হলো জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”

প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক, বর্তমানে কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে একটি স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং পুলিশের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি নতুন অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে পুলিশ হবে জনগণের প্রকৃত বন্ধু এবং আইনের রক্ষক।