ঈশ্বরদীতে বিদ্যালয়ে অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৬৫ ছাত্রী


Rokonuz Zaman প্রকাশের সময় : মে ১৩, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ন /
ঈশ্বরদীতে বিদ্যালয়ে অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৬৫ ছাত্রী

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি:

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্তত ৬৫ জন ছাত্রী হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। গ্যাস জাতীয় কোনো কিছুর বিষক্রিয়ায় এমন হতে পারে বলে ধারণা শিক্ষকদের। তবে চিকিৎসকদের ধারণা, এটা ম্যাস হিস্টিরিয়া। একজনকে দেখে অন্যরা অসুস্থ্য হয়ে পড়ে।

অসুস্থদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অসুস্থদের মধ্যে সবাই ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী।

উকুননাশক স্প্রে বোতলমুলাডুলি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাগারিক শফিকুল ইসলাম বলেন, বুধবার বেলা পৌণে একটার দিকে তিনতলায় অবস্থিত ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম শ্রেণীর তিন-চারজন ছাত্রী হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে যায়। এ সময় প্রচন্ড গরম ছিল ও পরে বৃষ্টি শুরু হয়। আমরা দ্রুত তাদের হাসপাতালে পাঠানো ব্যবস্থা করি। এভাবে আস্তে আস্তে আরো অনেক ছাত্রী কেউ অসুস্থ, কেউ অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাসনা রানী জানান, তৃতীয় তলায় ৬ষ্ঠ শ্রেণীর তিন নাম্বার কক্ষে বেঞ্চের নীচে একটি উকুননাশক স্প্রে বোতল পাওয়া গেছে। সেটার মুখ খোলা ছিল। কোনো ছাত্রী নিয়ে আসতে পারে। সেটা থেকে কোনো গন্ধ বের হয়ে এমন হলো কি না বোঝা যাচ্ছে না। প্রথমে মাথা ঘোরায়, তারপর একে একে অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছাত্রীরা। সাথে সাথে ইউএনও স্যার ও ফায়ার সার্ভিসে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় ৬৫ জনকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

অসুস্থ্য ছাত্রীদের অভিভাবক ঘটনা শুনে হাসপাতালে ছুটে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পরে সেখানে চিকিৎসা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর অনেকেই সুস্থ বোধ করায় অভিভাবকরা তাদের বাড়ি নিয়ে গেছেন।

এদিকে, খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে তাদের দেখতে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল, ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব, ঈশ্বরদী থানার ওসি আসাদুর রহমান। তারা অসুস্থ্য ছাত্রীদের খোঁজ নেন ও চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের কর্মকর্তা ডা: কাবেরী সাহা বলেন, হঠাৎ করেই হাসপাতালে স্কুল ড্রেস পড়া অনেকগুলো শিক্ষার্থীকে অসুস্থ অবস্থায় নিয়ে আসে। সবাইকে আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। প্রয়োজনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। আর অন্যরা এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। এটা মুলত ম্যাস হিস্টিরিয়া হতে পারে। ভয়ের কিছু নেই।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন কেউ অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল, কেউ শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। বর্তমানে তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, ছাত্রীরা কেন অসুস্থ্য হয়েছে বিষয়টি এখনও পরিস্কার নয়। তবে যতটুকু জেনেছি, ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ওয়াশরুমে একটি কীটনাশকের বোতল দেখতে পায় ছাত্রীরা। সেখান থেকে কোনো বিষাক্ত গ্যাসের মতো কিছু বের হয়ে এমন হতে পারে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন এটা ম্যাস হিস্টিরিয়া। ভয়ের কিছু নেই। সবাই সুস্থ্য আছে।

ইউএনও আরো জানান, এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া পুলিশ আর গোয়েন্দা সংস্থা যারা আছে তাদেরও বলেছি বিষয়টি তদন্ত করতে। শ্রেণীকক্ষের ওয়াশরুমে কীটনাশকের বোতল কোথা থেকে কিভাবে আসলো। তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

উল্লেখ্য, চিকিৎসা ভাষায় ম্যাস হিস্টিরিয়া বা গণমনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতা হলো, একদল মানুষের মধ্যে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া একই ধরণের শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ। এটি সাধারণত প্রচণ্ড ভয়, উদ্বেগ বা সামাজিক উত্তেজনার ফলে সৃষ্ট একটি গণমনস্তাত্ত্বিক ঘটনা, যেখানে একে অপরের দেখাদেখি লক্ষণগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

You cannot copy content of this page