মাগুরায় দেওয়াল ভেঙ্গে মসজিদে ঢুকে হামলা, তিনজনকে কুপিয়ে জখম


Rokonuz Zaman প্রকাশের সময় : মে ১, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ন /
মাগুরায় দেওয়াল ভেঙ্গে মসজিদে ঢুকে হামলা, তিনজনকে কুপিয়ে জখম

মাগুরা প্রতিনিধি:

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার চরজোকা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মসজিদের ভেতরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা মসজিদের দেওয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত তিনজন গুরুতর জখমসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১ মে) জুমার নামাজের পর এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং অন্যদের মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের চরজোকা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুটি সামাজিক দলের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। একপক্ষের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম সাচ্চু এবং অপরপক্ষের নেতৃত্ব দেন একই কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান দুলু।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুরে লাল্টু শেখ নামে এক কৃষককে মাঠে একা পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনার জেরে দুপুর দেড়টার দিকে সাচ্চু গ্রুপের সমর্থকরা চরজোকা পশ্চিমপাড়া মসজিদের সামনে জড়ো হন। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুলু সমর্থিত লোকজন মসজিদের ভেতরে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে একপর্যায়ে হামলাকারীরা মসজিদের একটি অংশের দেওয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়।
এতে মোক্তার শেখ, দুলাল মণ্ডল ও রেজাউল শেখ গুরুতর জখম হন। আহত মোক্তার শেখের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে মসজিদে ঢুকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিনহাজুল ইসলাম সাচ্চু। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষের লোকজনই আগে তাদের ওপর হামলা চালায় এবং সংঘর্ষের সময় কেউ আহত হয়ে মসজিদে ঢুকে থাকতে পারে।
অন্যদিকে হাবিবুর রহমান দুলু অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে মসজিদে ঢুকে তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, সামাজিক বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মাগুরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশাসন মো. শিবলী সাদিক বলেন, এ ঘটনাটি আমি শুনেছি তবে এখন ঘটনাস্থলে যাচ্ছি এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে বলা যাবে।

You cannot copy content of this page