
ঘুষ দুর্নীতি ও দলিল বাণিজ্যের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে সাতক্ষীরা সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিস। ফ্রেশ ভিটা জমি ও নাল জমিকে ডোবা নালা ও পতিত দেখিয়ে বেআইনি ভাবে জমির শ্রেনী পরিবর্তন করে জমি রেজিষ্ট্রেশন করছেন সাব রেজিস্ট্রার অমায়িক বাবু ওরফে শ্রীযুক্ত বাবু অমায়িক কুমার বিশ্বাস। এতে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হলেও সাব রেজিস্ট্রার, অফিস সহকারী মহসিন, দলিল লেখক সমিতির কতিপয় নেতা হচ্ছেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। নামে বেনামে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে দ্বৈত নাগরিক অমায়িক বাবুর নামে। তার দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি সম্প্রতি সামনে আসে আইজিআর আব্দুল হান্নান স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক ই পাসপোর্ট বিষয়ক পরিপত্রের মাধ্যমে। অনুমোদিত ওই পরিপত্রে দেখা গেছে অমায়িক বাবু তার স্ত্রী প্রতিমা মন্ডল( ২৮), ২ বছর বয়সী পুত্র সিদ্ধার্থ বিশ্বাস ও তিন বছর বয়সী কন্যা অন্বেষা বিশ্বাসের নামে আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট তৈরির ক্লিয়ারেন্স আদায় করে নিয়েছেন।।
সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার ও পতিত শেখ হাসিনার পেতাত্মা হিসাবে খ্যাত অমায়িক বাবু যখন যেখানে চাকরী করেছেন সেখানেই নিজেকে কারাবন্দি সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের প্রিয়জন পরিচয় দিয়ে নিজস্ব ক্ষমতার বলয় সৃষ্টি করে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনেও অমায়িক বাবু গভীর রাত পর্যন্ত কতিপয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ক্যাডারদের সাথে গোপন শলাপরামর্শে লিপ্ত থাকতেন ওই আন্দোলন দমনের জন্য তিনি মোটা টাকা লগ্নী করেন বলেও জানিয়েছেন বটিয়াঘাটা ও খুলনার মানুষজন। এরপর ৫ই আগষ্ট ২০২৪ দেশের সার্বিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সময় পক্ষকালব্যাপী অমায়িক বাবু চুপচাপ থাকলেও এখন তিনি আবারো স্বমহিমায় উদ্ভাসিত।।
জনাব অমায়িক বাবু হলেন সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রারের পদাধিকারী একজন সরকারি কর্মকর্তা। সম্প্রতি তিনি তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের আন্তর্জাতিক ই-পাসপোর্ট নবায়নের জন্য একটি অনুমোদন সংক্রান্ত সরকারি আদেশ পেয়েছেন।
পদবি: সাব-রেজিস্ট্রার।
কর্মস্থল: সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, সাতক্ষীরা।
সম্প্রতি প্রাসঙ্গিকতা: তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের আন্তর্জাতিক ই-পাসপোর্ট নবায়নের অনুমতি পেয়েছেন।
আমাদের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সাতক্ষীরা সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিস অমায়িক বাবুর দিকনির্দেশনায় সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস নিয়ন্ত্রণ করে আসছে অফিস সহকারি মহসিন। এই মহসিনের নিজস্ব লোক হাবিব ও বাচ্চু সাত উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিস থেকেও দলিল প্রতি ৫০০ টাকা করে উত্তোলন করেন জেলা রেজিস্ট্রার(DR) হাফিজা হাকিম রুমার নামে, অথচ জেলা রেজিস্ট্রারকে সে জমা দেয় দলিল প্রতি ৩০০ টাকা
প্রতিদিন সিন্ডিকেটের সাথে হাত মিলিয়ে দলিল প্রতি ৯ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২৫/ ৩০ হাজার টাকা সেরেস্তা বা অফিস খরচের নামে আদায় করা হয়। আর পর্চায় সামান্য ভুল থাকলে, এনআইডিতে বানানের সামান্য গড়মিল হলে “” এসব জমি কস্মিনকালেও রেজিষ্ট্রেশন সম্ভব নয় “” বলে ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেয়া হয় লক্ষ লক্ষ টাকা। প্রতিদিন আদায়কৃত এসব অবৈধ টাকার ৫০% নেন সাব রেজিস্ট্রার, ২০% জেলা রেজিস্ট্রার আর বাকি ৩০% টাকা অফিস স্টাফ, কতিপয় দালাল, দলিল লেখক সমিতির কতিপয় নেতা ও আইজিআর অফিসের নামে লুটপাট করা হচ্ছে।
প্রতিদিন রাতে খুলনার সোনাডাঙ্গার বাসায় ফেরার পথে দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম আকষ্মিক অভিযান পরিচালনা করলে ঘুষের টাকাসহ সাব রেজিস্ট্রার অমায়িক বাবুকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা সম্ভব।
পুনশ্চঃ ঝিনাইদহের সন্তান অমায়িক বাবু ১৯৮৭ সালের ২৮শে ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। মেধাবী ছাত্র অমায়িক বিবিএ, এমবিএ পাশ করার পর ২০১৬ সালের ২১শে মার্চ সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে মনোনীত হন। তাঁর প্রথম পদায়ন সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জে, এরপর বাগেরহাটের কচুয়া, যশোরের কেশবপুর, খুলনার বটিয়াঘাটা হয়ে এখন বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত আছেন। তাঁর জন্ম তারিখ অনুযায়ী ২০৪৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর তিনি পিআরএলে যাবেন বলে নিবন্ধন অধিদপ্তরের বড়বাবু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।।। ( চলবে)
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :