নিখোঁজের তিন দিন পর ধান ক্ষেতে মিললো শিশুর লাশ, হত্যার অভিযোগ পরিবারের


Rokonuz Zaman প্রকাশের সময় : মে ৩, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ন /
নিখোঁজের তিন দিন পর ধান ক্ষেতে মিললো শিশুর লাশ, হত্যার অভিযোগ পরিবারের
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নিখোঁজের তিন দিন পর ফাতেমা আক্তার পলি নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে আখাউড়া থানা পুলিশ। রোববার (৩ মে) আখাউড়া পৌরসভার দেবগ্রাম এলাকার মাস্টারপাড়া থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ফাতেমা আক্তার পলি (৯) ওই এলাকার অটোরিকশা চালক হেলাল মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয়রা জানান, পলির বাবা একজন দিনমজুর অটোরিকশাচালক। তাদের তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে, পলি ছিল পরিবারের ছোট সদস্য। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে পাশের ধানের জমিতে ফেলে রেখে যায়। শনিবার সকালে তার লাশ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়।
নিহতের বাবা হেলাল মিয়া জানান, শুক্রবার বিকাল থেকে আমার মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আত্মীয়-স্বজনসহ আশপাশের সব জায়গায় অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে রাত ৯টার দিকে আখাউড়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করি। আজ (রোববার) সকাল ৯টার দিকে পাশের একটি জমিতে আমার মেয়ের লাশ ভেসে ওঠে। অথচ ওই জায়গায় আমি, আমার পরিবার ও পুলিশ একাধিকবার খোঁজাখুঁজি করেছি তখন কোনো লাশ বা জুতা পাওয়া যায়নি। কিন্তু আজ লাশ ও জুতা পাওয়া গেছে। আমার মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি কয়েকজনকে সন্দেহ করি, তারা মাদকাসক্ত। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।
এসময় তিনি আরও বলেন, যে দিন হারিয়েছে, সেদিনই যদি মারা যেত, তাহলে তিন দিন লাশ এভাবে থাকত না। লাশে দুর্গন্ধ বা পচন ধরত।
নিহতের বড় ভাই রাসেল মিয়া বলেন, আমার বোনের মরদেহ দেখে মনে হচ্ছে এটা হত্যাকাণ্ড। আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। তাকে মেরে লাশ জমিতে ফেলে রাখা হয়েছে। আমি আমার বোনের হত্যার বিচার চাই।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম জানান, পলি নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এরপর থেকেই আমরা অনুসন্ধান চালাচ্ছি। আজ সকালে খবর পেয়ে পাশের একটি ডোবা থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা যাবে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

You cannot copy content of this page