আজ নেত্রকোনায় অনুষ্ঠিত হয়ে উপমহাদেশের প্রখ্যাত মরমি সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৫তম তিরোধান দিবস


 পলাশ পাল, নেত্রকোনা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৭, ২০২৫, ৫:৪৬ অপরাহ্ন /
আজ নেত্রকোনায় অনুষ্ঠিত হয়ে উপমহাদেশের প্রখ্যাত মরমি সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৫তম তিরোধান দিবস

বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৫তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে নেত্রকোণায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) আয়োজন করেন আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বাংলা ১২৯৭ সালের পহেলা কার্তিক (১৬ অক্টোবর) সাধক লালন সাঁই এই ছেউড়িয়াতেই দেহ ত্যাগ করেন। নেত্রকোণা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবার প্রথম লালন তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
এই উৎসবে যোগ দিতে নেত্রকোণাসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লালণ অনুসারীদের নিয়ে আসেন নেত্রকোণা জেলা প্রশাসন। স্থানীয় নৃত্য শিল্পী, লালণগীতির গায়কসহ ছুটে এসেছেন, লালন অনুসারী, সাধু-গুরু, বাউল ও ভক্তরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আলোচনা সভা শুরু হয়। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য জনাব ফাহিম রহমাণ খান পাঠান, জানাপা-র কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রীতম সোহাগ, বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্ববায়ক এস.এম মনিরুজ্জামান দুদু, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া হেলিম, বিশেষ আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন জনাব তানভীর জাহান চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুখময় বিশ্বাস ও নেত্রকোণা জেলার বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ মাহমুদ জামান।
আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে সুমন সরকার অনিকের পরিচালনায় নৃত্য শিল্পীরা লালনের গানের সাথে দর্শকদের হৃদয় জয় করে নেন।
নৃত্যর পরেই শুরু একক গান নিয়ে বাউল সুমন টান দেন তার চিরাচরিত কণ্ঠে লালনের গান। তিনি দর্শকদের সামনে দুটি গান গেয়ে মাতিয়ে রাখেন পুরো পাবলিক হল ভবন।
পরের বার আবারও পল্লবী সাহার পরিচালনায় নৃত্য শিল্পীরা লালনে সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে গানটিতে পারফর্ম করে দর্শকদের হৃদয় জয় করে নেন।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের পাশাপাশি অজস্র দর্শকদের দেখা যায় আজ পাবলিক হলে। এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম শুভ জাতীয় নাগরিক পার্টির, প্রধান সমন্বয়কারী, মোহনগঞ্জ। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক জনাব আব্দুল্লাহ মাহমুদ জামান স্যারের আজকের আয়োজনটি শুধু নেত্রকোণাতেই প্রথম নয়, আমার মনে হয় সারা বাংলাদেশেই এটি ১ম। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহাত্মা লালন সাঁইজির তিরোধান অনুষ্ঠান পালণ যা আগে কখনো হয় নি নেত্রকোণা জেলায়।
জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান তাঁর বক্তব্যে বলেন-লালণের ধর্ম, বর্ণ, জন্ম নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকলেও তাঁর সাম্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ও অসাম্প্রদায়িক মানুষ বিশ্বে লালণ একজনই। আমরা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।
লালন ফকির কারো মতে একজন আধ্যাত্মিক বাউল সাধক। কারো মতে, মানবতার অন্তরালে সর্বেশ্বরবাদী সুফি সাধক, সমাজ সংস্কারক, দার্শনিক। লালন অসংখ্য অসাধারণ গানের সম্রাট , সুরকার ও গায়ক ছিলেন। লালনকে বাউল গানের অগ্রদূত বলা যায়। তাঁর গানের মাধ্যমেই উনিশ শতকে বাউল গান জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তাকে উপমহাদেশের প্রখ্যাত বাউল গানের সম্রাট হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে

You cannot copy content of this page