৪ বছর বয়সী ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনি মোটা টাকার বিনিময়ে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করে আবারো বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে


স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৫, ৪:৪০ অপরাহ্ন /
৪ বছর বয়সী ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনি মোটা টাকার বিনিময়ে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করে আবারো বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে

৪ বছর বয়সী ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সাব রেজিস্ট্রার ওসমান গণি আবারো আলোচনায়। ঘুষ দুর্নীতি লুটপাট আর জাল দলিল বাণিজ্যের কালো টাকায় নামে বেনামে গড়ে তোলা অবৈধ সম্পদের পাহাড়ের হিসেব না নিয়ে নিবন্ধন অধিদপ্তর আবারো তার চাকরির মেয়াদকাল ১ বছর বর্ধিত করে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় দুর্নীতিবাজ সাব রেজিস্ট্রার ওসমান গণির মতো ভুয়া সাব রেজিস্ট্রারের চাকরি বর্ধিতকরণের পিছনে ১০ কোটি টাকা গোপন লেনদেনের গুঞ্জন এখন ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুরসহ দেশের সকল রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্স জুড়ে।

ফলে শতভাগ বৈধ লেখাপড়া ও বৈধ সার্টিফিকেটের মাধ্যমে যেসব সাবরেজিস্টারবৃন্দ স্বচ্ছ নিয়োগপ্রাপ্তির মাধ্যমে এখনো সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন, তাঁরা মুজিবনগর সরকারের ভূয়া কর্মচারীর পরিচয় ও ভূয়া মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট এবং জাল শিক্ষাসনদে সাব রেজিস্ট্রারের চাকরি বাগিয়ে নেয়া লুটেরা ওসমান গণির চাকরি বর্ধিতর খবরে প্রচণ্ড হতাশ ও বিস্মিত হয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, ১৯৬৬ সালের ২৪ শে জুলাই কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণকারী ওসমান গণি মন্ডলের সাড়ে ৪ বছর মাত্র বয়স হয়েছিলো মুক্তি যুদ্ধকালীন সময়ে। ওইসময় দুধের শিশু ওসমান গণি নর্থবেঙ্গলের কুড়িগ্রাম থেকে সুদূর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বশেষ জেলা মেহেরপুরের মুজিবনগর তথা জমিদার বৈদ্যনাথ বাবুর আম্রকাননে কীভাবে পৌঁছালেন এবং মুজিবনগর সরকারের কর্মচারি হিসেবে শপথ নিয়ে এক একটি সাড়ে ৭ কেজি ওজনের থ্রীনটথ্রী বন্দুক আর গোলাবারুদ নিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ওপর ঝাপিয়ে পড়লেন, তা মানব সভ্যতার ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যয়।।

ওসমান গণি উচ্চমাধ্যমিকের পর আর পড়াশুনা করার সুযোগ পাননি। তবে দুর্নীতির এই বরপুত্র মুজিবনগর সরকারের ভূয়া কর্মচারী ও ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের পাশাপাশি অনার্স-মাস্টার্স এর জাল শিক্ষাসনদ জমা দিয়ে তৎকালীন আইনমন্ত্রীর চাহিদা মোতাবেক ঘুষের টাকা পৌঁছে দিয়ে ৭ই ডিসেম্বর ২০০৯ ইং তারিখে সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগপত্র হাতিয়ে নেন।

তার প্রথম পদায়ন হয় নিজ জেলা কুড়িগ্রামের চিলমারী সাব রেজিস্ট্রার পদে। এরপর একে একে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার, নাটোরের গুরুদাসপুর, কুড়িগ্রামের চররাজিবপুর, ঠাকুরগাঁও সদর, চট্টগ্রামের বাঁশখালী, নরসিংদীর মনোহরদী, বগুড়া সদর, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, গাজীপুরের শ্রীপুরে ঘুষ দূর্নীতি আর জাল দলিল বাণিজ্যের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

উল্লিখিত এসব সাব রেজিস্ট্রার অফিসে চাকরী করাকালীন জমির শ্রেণী পরিবর্তন, পে অর্ডার আত্মসাৎ, ভলিউম বইয়ের পাতা ছিঁড়ে ফেলা, ওভার রাইটিং, জাল এনআইডির অপব্যবহার, সরকারি খাসজমি ও বনবিভাগের জমি ব্যক্তি মালিকানায় ও ডেভলপার কোম্পানির নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়ে আনুমানিক ৫০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

তিনি যখন যে অফিসে গেছেন সেখানকার অফিস স্টাফ ও দালাল সিন্ডিকেটের সকলকে কোটিপতি বানিয়ে নিজে লুটে নিয়েছেন শত-শত কোটি টাকা।। তার ঘুষ দূর্নীতি আর লুটপাট বাণিজ্যের টাকায় পুরুষ স্টাফরা খোশমেজাজে থাকলেও অফিসের নারী স্টাফরা একান্তে তার শয্যাসঙ্গী হওয়ার ভয়ে থাকতেন মহা আতঙ্কে।

গতবছর ওসমান গণিকে পাবনায় বদলি করা হলেও তিনি সেখানে যোগ দেননি। আইজিআর অফিসের বদলি আদেশ উপেক্ষা করে (BRSA) বাংলাদেশ রেজিষ্ট্রেশন সার্ভিস এসোসিয়েশন এর দু নেতার মাধ্যমে গোপন সিঁড়ি ব্যবহার করে ২ কোটি টাকা লগ্নীকরে ২৫/২/২০২৫ তারিখে গাজীপুরের কাপাসিয়া সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগদান করে।

You cannot copy content of this page