
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর ফলকন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চলছে প্রকাশ্যে ঘুষ-বাণিজ্য। জমির খারিজ, নামজারি, খাজনা প্রদান কিংবা রেকর্ড সংশোধন—যে কাজই হোক না কেন, টাকা ছাড়া কোনো ফাইল অগ্রসর হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, অফিস সহায়ক মো. মুসলিম হোসেন (ডাকনাম মোসলেম) প্রতিটি কাজে ঘুষ দাবি করেন। টাকা না দিলে দিনের পর দিন ফাইল আটকে রাখা হয়। বিভিন্ন অজুহাতে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি করে জোরপূর্বক ঘুষ নিতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি কর্মকর্তা শম্ভু লাল মজুমদার এসব কর্মকাণ্ডে সরাসরি সহযোগিতা করছেন।
চর ফলকন ইউনিয়নের ভুক্তভোগী মো. নোমান জানান, পূর্ব চর ফলকন মৌজার ১২৭৮ খতিয়ানের জমির খাজনা দিতে গেলে অফিস সহায়ক মোসলেম প্রথমে ১৭ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ৬ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার পর মাত্র ১ হাজার ৮৮৭ টাকার রশিদ দেন।
একই ইউনিয়নের মো. ফিরোজ আলম অভিযোগ করে বলেন, “আমি খাজনা দিতে গেলে মোসলেম জানান ৩০ হাজার টাকা খাজনা আসবে। পরে ৪০ শতক জমির জন্য ১০ হাজার টাকা নিলেও আমাকে মাত্র ২ হাজার টাকার রশিদ দেন।”
ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী অফিস সহায়ক মুসলিম হোসেনের ভূমি অফিসের আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার কোনো এখতিয়ার নেই। কিন্তু ভূমি কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি অবৈধভাবে এসব ব্যবহার করে কৃষক ও সাধারণ ভূমি মালিকদের হয়রানি করছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অফিস সহায়ক মো. মুসলিম হোসেন বলেন, “সার্ভারজনিত কারণে হোল্ডিং ভূল হয়েছে। এজন্যই এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।”
ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) শম্ভু লাল মজুমদার বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। ভুক্তভোগীদের আসতে বলেছি। যেভাবে বলবেন সেভাবেই সমাধান করে দেবো। তবে নিউজ করিয়েন না।”
কমলনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আরাফাত হোসাইন বলেন, “খাজনার রশিদে উল্লেখিত টাকার বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :