‘ওএসডি’ থেকে মুক্তি পেতে মোটা টাকার তদবির! নারী কেলেঙ্কারিতে জড়ানো যুগ্ম সচিব কাজী মাহবুবুর রশিদকে ঘিরে বিতর্ক


স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৫, ৫:১৫ অপরাহ্ন /
‘ওএসডি’ থেকে মুক্তি পেতে মোটা টাকার তদবির! নারী কেলেঙ্কারিতে জড়ানো যুগ্ম সচিব কাজী মাহবুবুর রশিদকে ঘিরে বিতর্ক

নারী সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির ঘটনায় ওএসডি হওয়া  যুগ্ম সচিব বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (প্রশাসন) ২৪ তম ব্যাচ কাজী মাহবুবুর রশিদের বিরুদ্ধে আবারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে ফের কোনো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে পদায়নের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্রগুলো জানায়, কাজী মাহবুব রশিদ নামের ওই কর্মকর্তা “প্রকাশ্যে এবং গোপনে মিলিয়ে ৩ টি বিয়ে করেছেন। এর বাহিরেও তার রয়েছে একাধিক বান্ধবী।ঘরে বউদের রেখে তিনি ছবির এই নারী সহ অন্যদের সাথে বেশি সময় কাটান। গোপালগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে চাকুরির সুবাদে সেখানে একাধিক অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তার পিওনের স্ত্রী লাভলী আক্তার সহ একাধিক নারীর সাথে সম্পর্ক রেখে চলেছেন এই আমলা। বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীরা তার লুচুপানা নিয়ে আপত্তি তুললে, স্ত্রীদেরকে নানা নি/র্যা/ত/ন নিপীড়ন চালান”

এই শিরোমানে প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর তার নিউজ পোর্টাল কারপশন ইন মিডিয়া এবং ব্যাক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে পোষ্ট দেওয়ার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে ওএসডি হন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার নাম ঘুরেফিরে উচ্চপর্যায়ে আলোচনায় আসছে—এবার আরেকটি বিতর্কিত প্রেক্ষাপটে।

“তিনি বিভিন্ন প্রভাবশালী সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কারো কারো মাধ্যমে রাজনৈতিক মহলেও পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন বলে শুনছি,”—বলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, যিনি অনিচ্ছুক নাম প্রকাশে।

বিশ্বস্ত সূত্রগুলো দাবি করছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ইতোমধ্যেই ১৫-২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আগাম লেনদেন করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার লক্ষ্য, আগামী প্রশাসনিক রদবদলের সময় একটি ‘ভালো পোস্টিং’ নিশ্চিত করা।

সূত্রের আরো দাবি, তার বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা করা মাহবুব রশিদের তৃতীয় স্ত্রী ( ডিভোর্স নোটিশ দেওয়া) স্কুল শিক্ষিকা আফরিন সুলতানা (লিয়া) র সাথে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আপোষ করার কথাও শোনা যাচ্ছে।

একজন সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা বলেন, “সাধারণত ওএসডি হওয়া মানে প্রশাসনিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া। কিন্তু কেউ যদি সেখানে থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে চান, তাহলে ‘কিছু না কিছু লেনদেনের চেষ্টা’ বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায়। এটা নতুন নয়, তবে উদ্বেগজনক।”

তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সরকারি কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের কোনো তথ্য পাইনি। যেহেতু এটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং অভিযোগের বিষয়, তাই যথাযথ প্রমাণ ছাড়া মন্তব্য করা ঠিক হবে না।”

অন্যদিকে কাজী মাহবুব রশিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি এবং পাঠানো খুদে বার্তারও কোনো উত্তর মেলেনি।

⚖️ প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ:
ওএসডি হওয়া মানেই কোনো কর্মকর্তা ‘শাস্তির আওতায়’ আছেন এমনটা নয়, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এটি একটি সংকেত—যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আর কোনো প্রশাসনিক দায়িত্বে রাখা হচ্ছে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো কর্মকর্তা যদি বিতর্কিত পরিস্থিতিতে ওএসডি হন এবং তারপর রাজনৈতিক বা আর্থিক প্রভাব খাটিয়ে আবার পোস্টিং পান, তাহলে তা প্রশাসনের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে।

বিশিষ্ট প্রশাসন বিশ্লেষক ড. রিজওয়ানুল করিম বলেন,
“এই ধরনের ঘটনা যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে তা শুধুই ব্যক্তির ব্যর্থতা নয়, পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার নৈতিক স্খলনের প্রমাণ। ওএসডি হওয়া একজন কর্মকর্তার আবার ঘুষ দিয়ে পদ ফিরে পাওয়া পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে নষ্ট করে।”

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারি তদন্ত, কিংবা স্বচ্ছতা আনয়ন ছাড়া পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণ সত্য জানা যাবে না—তবে এ ধরনের অভিযোগ প্রশাসনের অভ্যন্তরেই যে উদ্বেগ তৈরি করছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে কীভাবে বিবেচনা করে।

You cannot copy content of this page