
লক্ষ্মীপুরের রামগতির বিভিন্ন এলাকায় মেঘনা নদীর তীব্র স্রোত ও পানির চাপে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জোয়ারের পানিতে লোকালয় প্লাবিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এরই মধ্যে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও নানা স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ অবস্থায় বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে ঢিমেতালে। চর আলগী ও চর আলেকজান্ডার এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগের বাঁধ ধসে পড়ায় উপকূলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
প্রকল্পের ধীরগতি
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, রামগতি ও কমলনগরকে ভাঙন থেকে রক্ষায় ২০২১ সালের ১ জুন একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় ৩ হাজার ৮৯ কোটি টাকা। প্রকল্প অনুযায়ী রামগতিতে ১৮ কিলোমিটার এবং কমলনগরে ১৩ কিলোমিটার তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ হবে।
রামগতিতে ৫৪টি লটে ৫৪ জন ঠিকাদার কাজ করার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত মাত্র ৪৩ ভাগ এলাকায় কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রামগতিতে ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার ও কমলনগরে ৮ কিলোমিটারের কাজ শুরু হয়েছে বলে দাবি পাউবোর।
অভিযোগ ও বাস্তবতা
রামগতির বড়খেরী ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রান্ত মজুমদার জানান, ঠিকাদাররা বালু ও শ্রমিক সংকটের অজুহাত দেখিয়ে কাজ শুরু করছে না। এতে ভাঙনের মুখে পড়েছে এলাকা, নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে বসতবাড়ি। চর টবগীর শরীফুল ইসলাম বলেন, “উপকূলের মানুষকে রক্ষায় তদারকি জোরদার করে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।”
ওচখালী থেকে সেন্টার খাল পর্যন্ত সাড়ে ৯ কিলোমিটারের মধ্যে সাড়ে ৩ কিলোমিটার বাঁধ থাকলেও বাকি অংশে কাজ অসম্পূর্ণ। উপসহকারী প্রকৌশলী তনয় রায়ের স্বীকারোক্তি, ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেলেও কেউই সময়মতো কাজ শেষ করতে পারেনি।
একইভাবে সেন্টার খাল থেকে কমলনগরের সীমানা পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার অংশে ৯ জন ঠিকাদার কার্যাদেশ পেলেও সঠিক সময়ে কাজ হয়নি। কেবল একজন ব্লক স্থাপনের কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জোবায়ের।
স্থানীয়দের অভিযোগ
চর আলগী ও চর আলেকজান্ডার ইউনিয়নে ঘুরে দেখা গেছে, কার্যাদেশ পেলেও অনেক ঠিকাদার কাজ শুরু করেননি। কোথাও কোথাও জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ হলেও কিছু অংশ নদীতে ধসে গেছে। বড়খেরী ইউনিয়নে দৃশ্যমান কাজ চোখে পড়ে না। এমনকি রামগতি-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক সড়কের বড়খেরী অংশও ভাঙনের মুখে পড়েছে।
চর আলগী ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন লিটন জানান, চর টবগী এলাকায় প্রায় ১৫০ মিটার বাঁধ ধসে পড়েছে। এতে বহু ঘরবাড়ি ও মসজিদ নদীতে চলে গেছে।
চর আলেকজান্ডারের উকিলপাড়ায় একই দৈর্ঘ্যের জিও ব্যাগ বাঁধ নদীতে ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান শামীম আব্বাস সুমন। তাঁর মতে, টেকসই বাঁধ না হলে এ ভোগান্তি চলতেই থাকবে।
পাউবোর বক্তব্য
এদিকে, লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ দাবি করেছেন, রামগতি ও কমলনগরের ১৩ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ১৮ লাখ জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। তবে নদী উত্তাল থাকায় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তাঁর আশ্বাস, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে কাজ শুরু হবে। যারা কাজ করবে না, তাদের কার্যাদেশ বাতিল করা হবে।
মূলত, বিশাল বরাদ্দ হলেও কাজের ধীরগতি, ঠিকাদারদের গাফিলতি ও অজুহাতের কারণে ভাঙনকবলিত মানুষ কোনো সুফল পাচ্ছে না। ফলে দিন দিন আতঙ্কে জীবন কাটাচ্ছেন উপকূলের বাসিন্দারা।
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :