
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের সুন্দাইলপাড়ায় মাছের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতির ঘটনায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। গ্রামবাসীর হাতে আটক হওয়া শাহীনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এবার পুলিশ মূল প্ররোচক হিসেবে অভিযুক্ত ফারুককে (৩৮), পিতা আক্কাস, গ্রেপ্তার করার চেষ্টা অব্যহত রাখছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আটক শাহীন প্রথমে স্বীকার করে যে, সে সরাসরি পুকুরে বিষ ঢেলেছে। তার দাবি, শত্রুতার জেরে ফারুক তাকে এ কাজে প্ররোচিত করে এবং বিষ কিনে দেয়। প্রাথমিকভাবে ফারুক অভিযোগ অস্বীকার করলেও পুলিশি অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের সাক্ষ্যে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলায় তাকে গত রাতে অভিযান চালিয়ে আটক করে পুলিশ।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োতে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সুরুজ বাঙ্গালির জিজ্ঞাসাবাদ থেকে জানা যায়, “দুই আসামিকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নাজমুলের অভিযোগের মামলা রজু হওয়া শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নাজমুল বলেন, “আমি সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমার পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তায়। আমি চাই অপরাধীরা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়।”
অন্যদিকে, এলাকাবাসীও ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত বিচার দাবী জানাচ্ছেন। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুরুজ বাঙ্গালি বলেন, “এটি শুধু নাজমুল নয়, পুরো এলাকার জন্য একটি বড় ক্ষতি। প্রশাসনের উচিত দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিয়ে গ্রামে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
গ্রামের মানুষ মনে করছে, শত্রুতা বা প্রতিহিংসার কারণে যদি এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটে, তবে এর প্রভাব কেবল একজন মানুষের ওপর নয়—পুরো সমাজকে নৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করে।
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :