‎বিআইডব্লিউটিএ-র ইঞ্জিনিয়ার মহসিনের বিরুদ্ধে ধলেশ্বরী নদীর খননকৃত মাটি দিয়ে সরকারি পুকুর ভরাট করে শ্রেণী পরিবর্তনের অভিযোগ


কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৫, ৩:০০ অপরাহ্ন /
‎বিআইডব্লিউটিএ-র ইঞ্জিনিয়ার মহসিনের বিরুদ্ধে ধলেশ্বরী নদীর খননকৃত মাটি দিয়ে সরকারি পুকুর ভরাট করে শ্রেণী পরিবর্তনের অভিযোগ

‎কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ধলেশ্বরী নদীতে বিআইডব্লিউটিএ-র চলমান ড্রেজিং কার্যক্রমের খননকৃত মাটি দিয়ে সরকারি পুকুর ভরাট ও পুকুর ভরাট করে শ্রেণী পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসুবিধার সৃষ্টি হয়েছে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অষ্টগ্রাম উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের কাস্তুল মৌজার আরএস ৩৫৭ নম্বর দাগের সরকারি শ্রেণিভুক্ত পুকুরগুলোতে ড্রেজার থেকে ওঠা বিপুল পরিমাণ মাটি ফেলা হচ্ছে। এতে পুকুরের জলাধার ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।

‎এলাকাবাসী জানান, পুকুর ভরাটের কারণে গোসল, আসবাবপত্র ধোয়া এবং দৈনন্দিন পানি চাহিদা পূরণে সঙ্কট সৃষ্টির আশংকা রয়েছে। স্থানীয় কৃষক মো. জহিরুল ইসলাম সহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন পুকুরের পানি ব্যবহার করতাম। কিন্তু মাটি ফেলার পর পানি মেলে না। গোসল, বাসার কাজ ও পানির চাহিদা সবই কঠিন হয়ে গেছে।” মোঃ জুনায়েদ মিয়া নামে অন্য একজন গ্রামবাসী বলেন, “পুকুর ভরাটের কারণে বর্ষা ও খরার সময় পানি ঠিকমতো থাকে না। আমাদের দৈনন্দিন জীবন খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”

‎এ বিষয়ে দায়িত্বরত বিআইডব্লিউটিএ-র ইঞ্জিনিয়ার মহসিন উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার কল করলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

‎অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অষ্টগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আহাদ বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সরকারি সম্পদ দখল কিংবা প্রকল্পের অপব্যবহার সহ্য করা হবে না। খুব শিগগিরই তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া পুকুরের কার্যক্ষমতা বজায় রাখার বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

‎প্রসঙ্গত, সরকারি পুকুর ভরাট করে শ্রেণী পরিবর্তন করা এবং জলাধার কার্যক্ষমতা ব্যাহত করা সরকারি সম্পদ সুরক্ষা আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন, যা স্থানীয় জনগণের জীবিকা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

You cannot copy content of this page