রংপুরের গঙ্গাচড়ার বড়াইবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ৫ সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় উপজেলার সাংবাদিকরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। গতকাল শুক্রবার বিকালে উপজেলা জিরো পয়েন্টে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের তথ্য নিয়ে আমরা স্কুলের বাইরে বাজারে আসলে প্রধান শিক্ষক আলমগীর জামান ও সহকারী শিক্ষক মহির আলীর নেতৃত্বে বহিরাগত সন্ত্রাসী দ্বারা হামলা চালানো হয়। এতে একাধিক সাংবাদিক আহত হন এবং ক্যামেরাসহ অন্যান্য সরঞ্জামও ভাঙচুর ও ছিনতাই করা হয়।
সাংবাদিকরা আরও জানান, হামলার ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তার না করে ওসি সাংবাদিকদের মামলা নিতে গরিমসি করেন। এটি প্রশাসনের গাফিলতা ও সাংবাদিকের প্রতি বিরুপ আচরন স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব সভাপতি ও কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি সাজু আহমেদ লাল। বক্তব্য দেন দৈনিক সকালের বানী পত্রিকার প্রতিনিধি মাহফুজার রহমান মাহফুজ, দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা প্রেসক্লাব আহ্বায়ক আব্দুল আলীম প্রামানিক এবং রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান দুলু।
মাহফুজার রহমান মাহফুজ বলেন,সাংবাদিকদের ওপর হামলা মানে জনগণের কণ্ঠরোধের চেষ্টা। দুর্নীতিকে ঢাকতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক সাংবাদিকদের রক্ত ঝরিয়েছেন। একজন সাংবাদিকের রক্ত ঝরলে হাজারো সাংবাদিক জেগে ওঠে। দোষীদের গ্রেপ্তার না হলে আন্দোলন গঙ্গাচড়া ছাড়িয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে।
আশরাফুল ইসলাম বলেন,আজ সাংবাদিক আক্রান্ত, কাল সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হবে। প্রশাসন যদি হামলাকারীদের আশ্রয় দেয়, আমরা চুপ করে থাকব না। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করুন, নইলে গঙ্গাচড়ার মাটিতে দুর্নীতিবাজদের দাঁড়াতে দেব না।
আব্দুল আলীম প্রামানিক বলেন:আমরা কলমের সৈনিক। আমাদের কলম কখনো থেমে থাকবে না। হামলাকারীরা ভেবেছে ভয় দেখিয়ে সাংবাদিক দমিয়ে রাখা যাবে—তারা ভুল করেছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচার না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করব।
সাজু আহমেদ লাল (প্রেসক্লাব সভাপতি) বলেন:সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ ও জনসাধারণকে সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার জন্য মাঠে কাজ করেন। তাদের ওপর হামলা মানে গণমাধ্যম ও জনগণের কণ্ঠরোধ। আমরা দাবি জানাচ্ছি—হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন পদক্ষেপ নিক। একই সঙ্গে স্পষ্টভাবে দাবি জানাচ্ছি—৭২ ঘন্টার মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না হলে গঙ্গাচড়ার সাংবাদিক সমাজ বৃহত্তর কর্মসূচির দিকে যাবে।
মিজানুর রহমান দুলু বলেন:সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। এখানে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে, উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা নেওয়া হচ্ছে। এটি প্রশাসনের গাফিলতি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।
বক্তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা গ্রহণের চেষ্টা নিন্দনীয় উল্লেখ করেন।মানববন্ধনে গঙ্গাচড়া উপজেলার সকল সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন গংগাচড়া প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব আলিফ আলি সরকার রিজু। উপজেলা সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজ এর উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন :