রংপুরে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানঃ অপারেশন করেন অষ্টম শ্রেণী পাস করা ডাক্তার


মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল, রংপুর প্রতিনিধি : প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৫, ৯:৫৮ পূর্বাহ্ন /
রংপুরে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানঃ অপারেশন করেন অষ্টম শ্রেণী পাস করা ডাক্তার
রংপুর নগরীর ধাপ এলাকার বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালের লাইসেন্সের নবায়ন নেই পাঁচ বছর ধরে, নেই পরিবেশ ছাড়পত্রসহ বৈধ কোনো কাগজপত্র। তবুও ওই হাসপাতালে জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা চলছে সমানতলে।

দীর্ঘদিন ধরে ওই হাসপাতালে জটিল-কঠিন রোগের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার করে আসছেন ‘অষ্টম শ্রেণী পাস করা যুবক।

এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) ওই ক্লিনিকে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। অপারেশন কক্ষে গিয়ে অষ্টম শ্রেণী পাস প্রশান্ত নামের এক যুবককে হাতেনাতে ধরেন রংপুরের সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা।

প্রশান্ত সুকৌশলে বোরকা পরে হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা চালায়। প্রায় দুই ঘণ্টা বোরকা পরে টয়লেটে লুকিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতায়।

প্রশান্তকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান মিশু তাঁকে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। এ ঘটনায় হাসপাতালের মালিক সামসুদ তিবরীজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও তিন দিনের জেল দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক। হাসপাতালের মালিক তাৎক্ষণিক জরিমানার টাকা পরিশোধ করে জেলের হাত থেকে রক্ষা পান।

রংপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা পলাশবাড়ী উপজেলার পশ্চিম গোপীনাথপুর গ্রামের ময়না বেগমের (২৬) সন্তান প্রসববেদনা উঠলে আজ সকালে ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির কিছুক্ষণ পর অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নিয়ে তাঁর সিজার করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে রংপুরের সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা বলেন, অভিযানে ওই বেসরকারি হাসপাতালের ওটিতে গিয়ে এক প্রসূতি নারীকে পাওয়া যায়। তখন সিজার করে তাঁর সন্তান বের করা হয়েছিল। সেলাই দিচ্ছিলেন এক যুবক। তিনি প্রথমে নিজেকে চিকিৎসক দাবি করেন। পরে বলেন, ‘আমি চিকিৎসক নই, অষ্টম শ্রেণী পাস করেছি মাত্র।’ এরপর তিনি বোরকা পরে হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন।

বেসরকারি হাসপাতালের মালিক দাবি করছিলেন ওই নারীর সিজার করিয়েছেন রংপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির চিকিৎসক রিফাত আরা। তবে রিফাতকে ওই সময়ে পাওয়া যায়নি—বললেন সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা।

এক প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন বলেন, ওই বেসরকারি হাসপাতালের বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। লাইসেন্সের মেয়াদও পাঁচ বছর আগে শেষ হয়েছে। নবায়নের জন্য আর আবেদন করেনি।

You cannot copy content of this page