গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বীজ বিক্রির অভিযোগ :প্রতিবাদ করায় নিরাপত্তা কর্মী মমিনুর কে বদলি


রংপুর প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৫, ৪:৪৭ অপরাহ্ন /
গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বীজ বিক্রির অভিযোগ :প্রতিবাদ করায় নিরাপত্তা কর্মী মমিনুর কে বদলি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিসের সরকারি বীজ বিক্রি সহ অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলায় নিরাপত্তা কর্মীকে বদলি করা হয়েছে। এবিষয়ে গত ২৮ আগষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন নিরাপত্তা কর্মী মমিনুর ইসলাম।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, কৃষি অফিসার কৃষকের কাছে লোকাল বীজ বিতরণ করেন এবং বিএডিসির বীজ প্যাকেট কেটে বস্তায় ভরে বাইরে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেন। এছাড়া বাপার গুদাম থেকে সার পরিবহনের সময় ট্রাক ভাড়া বাবদ কম টাকা পরিশোধ করলেও বিলের খাতায় বেশি টাকা দেখিয়ে পার্থক্য অর্থ আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়। অভিযোগকারী আরও জানান, চর প্রকল্পের অর্থ তার নাম ব্যবহার করে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি তার ছোট ভাইয়ের মাশরুম ট্রেনিংয়ের সুপারিশের জন্য ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ট্রেনিং স্থগিত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া তাকে সরকারি ছুটির দিনেও ২৪ ঘণ্টা অফিসে ডিউটিতে থাকতে বাধ্য করা হয়। এমনকি বিনা অপরাধে সোকজ নোটিশ ও বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, পূর্বের জের ধরে জোরপূর্বক তার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। এদিকে চলতি বছরের গত জুলাই মাসের ধারনকৃত ধান বীজের প্যাকেট কেটে ৬০ কেজি বস্তায় ধান ভর্তির একটি ভিডিও-ও এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায় কৃষি অফিসের গুদাম ঘরে কয়েকজন কৃষি কর্মচারী বিএডিসির ১০ কেজি বস্তা থেকে ধান বের করে ৬০ কেজি বস্তায় ধান ভরানো হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ শাহিনুর ইসলাম বলেন, সে যে অপরাধ করেছে তাকে বরখাস্ত করা দরকার। কিন্তু করি নাই মানবিক কারনে। ১০ কেজি ধানের প্যাকেট কেটে ৬০ কেজি বস্তায় ভরার ভিডিওর বিষয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, সে ভিডিও করাই অপরাধ করেছে। আমি কোথায় ক্রয়-বিক্রয় করবো না করবো তা আমার এখতিয়ার। আমি একজন ডিলারের কাছে ব্যবসায়ীর কাছে বীজ নিতে পারি। কৃষক কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কিনা সেটা দেখেন।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আমার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বদলী তো চাকরির অংশ। আর কৃষি কর্মকর্তার বিষয়ে অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।

You cannot copy content of this page