
এক্সপ্রেস প্রতিবেদক
চুয়াডাঙ্গার ডিঙ্গেদহে মায়া রাণী (২০) নামে এক গৃহবধূর আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ডিঙ্গেদহের খেজুরা হালদারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। মায়া রানী একই গ্রামের শ্যামল হালদারের স্ত্রী ও চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহ গ্রামের শ্রী ধীরেন হালদারের মেয়ে।
জানা গেছে, বছর তিনেক আগে পারিবারিকভাবে মায়া রানীর বিয়ে হয় ডিঙ্গেদহ খেজুরা হালদারপাড়া গ্রামের বিশ্বনাথ হালদারের ছেলে শ্যামলের সাথে। দাম্পত্য জীবনে তাদের শয়ন হালদার নামে এক বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান আছে। গতকাল মঙ্গলবার ছেলে শয়নের জন্মেিনর অনুষ্ঠান ধুমধামের সাথে করার ইচ্ছা ছিলো মায়া রানীর। সেই কথা স্বামী শ্যামল হালদারকে জানালে তিনি ছোট পরিসরে করার জন্য বলেন। কিন্তু মায়া রানী তাতে রাজি ছিলেন না। সেই কারণে স্বামীর সাথে গত সোমবার রাতে বাকবিতন্ডা হয়। সকালে শ্যামল হালদার বাজারে সার কিনতে বাড়ি থেকে বের হন। এরপরই গতকাল সকাল ৯টার দিকে স্বামীর সাথে বাকবিতন্ডার জের ধরে ঘরের আড়াই দড়ি টানিয়ে আত্মহত্যা করেন। বাজার থেকে কিছুক্ষণ পরই বাড়িতে ফিরে স্বামী শ্যামল েেখন তার ঘরের রজা বন্ধ। এসময় স্ত্রীকে ডাকাডাকি করে না পেয়ে দরজা ভাঙেন। ঘরে ঢুকেই দেখতে পান স্ত্রী মায়া রানী ঘরের আড়ায় গলাই দড়ি দিয়ে ঝুলছেন। স্বামীর চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্যরা এসে মায়া রানীকে নিচে নামিয়ে মাথায় পানি ঢালেন। তৎক্ষনাত ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিয়ে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে সরোজগঞ্জ ফাঁড়ি পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।
শঙ্করচন্দ্র ইউপির ৬নং ওয়ার্ড সদস্য ইমদাদুল হক জানান, ছেলের জন্মদিনের অনুষ্ঠান নিয়ে স্বামী-স্ত্রী মাঝে রাতে বাকবিতন্ডা হয়। পরদিন মঙ্গলবার সকালে গৃহবধূ মায়া রানী আত্মহত্যা করেন বলে জানতে পারি।
এ ঘটনায় মায়া রানীর পিতার কোনো অভিযোগ না থাকলেও ভাই দীপ কুমার হালদার জানান, বোন আত্মহত্যার খবর পেয়ে তার বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে বোনের শ্বশুর, শাশুড়ি ও বোন জামাইয়ের কাছে আত্মহত্যার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে ভিন্ন ভিন্ন উত্তর মেলে। প্রকৃত ঘটনা আমার বোনের শ্বশুরবাড়ির লোকজন আড়াল করার চেষ্টা করছেন বলে আমার ধারণা। বিষয়টি পুলিশি তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই সবুর জানান, গতকালই লাশের ময়না তদন্ত শেষে মায়া রানীর পিতা ধীরেন হালদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সদর থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান জানান, গৃহবধূ মায়া রানীর লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ না থাকায় পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :