
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙনে ফসলি জমি হারিয়ে আবারও দিশেহারা হয়ে পড়েছে অর্ধশতাধিক পরিবার। উজানের পাহাড়ি ঢল সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পরই নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা এলাকায় প্রায় ১০ একর ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের আতঙ্কে রয়েছে অর্ধশতাধিক পরিবার।
বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর তীরে দাঁড়িয়ে কৃষকরা উৎকণ্ঠায় ভাঙন দৃশ্য দেখছেন। ধানক্ষেত তিস্তার স্রোতে একে একে তলিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কৃষক মকবুল বলেন, বন্যার পানি কমতেই ভাঙন শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে আমাদের সবার আমন ধান সহ অন্যান্য ফসল একেবারে নদীতে চলে গেছে।
শাহিনুর জানান, ভাঙন রোধ করা না গেলে আমাদের ঘরবাড়িও নদীতে হারিয়ে যাবে। পুরো এলাকা হুমকির মুখে আছে।
রঘুনাথ চন্দ্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা বছরে একবারই ধান আবাদ করি। এবার সেই ধানও ভাঙনে গেছে। এখন এক বছর কী খেয়ে বাঁচব তার কোনো উপায় নেই।
একই সুরে আমজাদ হোসেন, আইয়ুব আলী, জুয়েল,অতুল চন্দ্র, আলম ও মোস্তফাসহ অনেকে বলেন, সরকারি সহায়তা ছাড়া আমাদের সামনে পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
স্থানীয়দের দাবি যেন দ্রুত সময়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়, তাহলেই ভাঙনের স্থায়ী সমাধান মিলবে।
কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, বিনবিনা থেকে চর শংকরদহ পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণের দাবি আমরা বহুবার জানিয়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে,বাস্তবায়নের কোন পরিকল্পনা নেই। বাঁধ হলে কোলকোন্দ ও লক্ষীটারী ইউনিয়নের বহু পরিবার ভাঙন থেকে রক্ষা পেত।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, তিস্তার ভাঙন এলাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন বন্যা ও ভাঙন মোকাবিলায় তৎপর রয়েছে।
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :