চকরিয়া থানা হাজতে লাশ উদ্ধার ওসি বদলি, তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার


কক্সবাজার প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৪, ২০২৫, ১:৫৪ অপরাহ্ন /
চকরিয়া থানা হাজতে লাশ উদ্ধার ওসি বদলি, তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

কক্সবাজারের চকরিয়া থানার হাজতে দুর্জয় চৌধুরী (২৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাত্র এক দিনের মধ্যে তিন পুলিশ সদস্যকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শনিবার পুলিশ সুপার মো. সাইফউদ্দিন শাহীনের আদেশে চকরিয়া থানার ওসিকে জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ হিসেবে বদলি করা হয়।

একই আদেশে জেলা পুলিশের পরিদর্শক তৌহিদুল আনোয়ারকে চকরিয়া থানার নতুন ওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাস।

তদন্ত কমিটি গঠন

ঘটনার পরদিনই শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাতে চকরিয়া থানার এএসআই হানিফ মিয়া, কনস্টেবল ইশরাক হোসেন ও মহিউদ্দিনকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। পাশাপাশি জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিহতের পরিচয়

দুর্জয় চৌধুরী চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী হিন্দুপাড়ার কমল চৌধুরীর ছেলে। বয়স ২৫ বছর। তিনি চকরিয়া সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

অভিযোগ থেকে মৃত্যুর ট্র্যাজেডি

পুলিশ সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের ২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাবিয়া খানম থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্জয়কে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং রাতেই তাকে হাজতে রাখা হয়।

পরে শুক্রবার ভোরে থানার হাজতখানার গ্রিলের সঙ্গে নিজের শার্ট পেঁচিয়ে দুর্জয়ের ঝুলন্ত দেহ পাওয়া যায়। খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

চকরিয়া সার্কেলের এএসপি অভিজিৎ দাস বলেন,“জনস্বার্থে চকরিয়া থানার ওসিকে বদলি করা হয়েছে। পুরো ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন ওসি তৌহিদুল আনোয়ার দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।”

স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন—থানায় আটক একজনের মৃত্যু কি আত্মহত্যা, নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তেই প্রমাণিত হবে।

You cannot copy content of this page