দামুড়হুদার নাটুদাহে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে বিএনপি নেতা সুলতানের মৃত্যু


সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩১, ২০২৪, ১:৪৫ পূর্বাহ্ন /
দামুড়হুদার নাটুদাহে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে বিএনপি নেতা সুলতানের মৃত্যু

এক্সপ্রেস প্রতিবেদক
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদাহে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত সুলতান আহমেদ মারা গেছেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বিএনপি নেতা সুলতান আহম্মেদ নাটুদা ইউনিয়নের খলিসাগাড়ী গ্রামের আফসার আলীর ছেলে। এর আগে গত ২৩ অক্টোবর পুলিশিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্রে করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। এতে সুলতানসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় গত সোমবার সুলতান হোসেনের ছেলে পলাশ উদ্দীন বাদী হয়ে ৫জনকে নামীয় আসামি করে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এ মামলার ৩নং আসামী নাটুদহ ইউনিয়নের জগনাথপুর গ্রামের গোচিয়ারপাড়ার মৃত ভরস আলীর ছেলে সোহরাব উদ্দীনকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, গত ২৩ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যায় চন্দ্রবাসে নাটুদা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে পুলিশিং কমিটি নিয়ে দুপক্ষকে নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক ওসমানসহ বৃহত্তর নতিপোতা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহিদুল হক, সহসভাপতি বাশারুল হাবিব বাশার, যুগ্ম-সম্পাদক আজিজুল কল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক, ছাত্রদলের ইউনিয়ন সভাপতি জামিউল হাসানসহ নেতৃবৃন্দ ইউনিয়নের ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দ নিয়ে আলোচনায় বসেন। এ সময় সুলতান গ্রুপ ও সাহাবদ্দী গ্রুপের হট্টগোল শুরু হলে পন্ড হয়ে যায় আলোচনা সভা। পরবর্তীতে সুলতান গ্রুপ দলীয় অফিস ত্যাগ করে অবস্থান নেই গচিয়ারপাড়া মোড়ে। এ সময় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি বিষয়টি নাটুদা পুলিশ ফাঁড়িতে অবহিত করে। পরবর্তীতে নাটুদা পুলিশের সহায়তায় সাহাবদ্দী গ্রুপের লোকজন বাড়ি ফেরার চেষ্টা করলে সুলতান গ্রুপের সাথে গচিয়ারপাড়া মোড়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়।
এ সময় সাহাবদ্দী গ্রুপের লোকজন পরবর্তীতে গেলে দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় সুলতানসহ তার গ্রুপের জমির, জমিরের ছেলে হাফিজুল, আজিদের ছেলে সাইফুল ও সুলতানের ছেলে আহত হন। অপরদিকে ভরসের ছেলে সাহাবদ্দী, সোরাবদ্দী, রেজাউল, আবেদ পন্ডিতের ছেলে আরিফ আহত হন। সাহাবদ্দী গ্রুপের লোকজন মুজিবনগর হাসপাতালে ও সুলতান গ্রুপের লোকজনকে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সুলতানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি মারা যান। সুলতানের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি মো হুমায়ুন কবীর জানান, বুধবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে অভিযান চালিয়ে মামলার ৩নং আসামি সোহরাব উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

You cannot copy content of this page