ফ্রান্সে ৭৫ বছরের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ দাবানলে এখনো পুড়ছে


সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৭, ২০২৫, ৩:৩৮ অপরাহ্ন /
ফ্রান্সে ৭৫ বছরের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ দাবানলে এখনো পুড়ছে

ফ্রান্সের ৭৫ বছরের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ দাবানল রাতভর কিছুটা ধীর হয়েছে, তবে এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এ দাবানলে প্যারিস শহরের চেয়েও বড় একটি এলাকা পুড়ে গেছে।

কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, দাবানল নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ ফ্রান্সের ওদ অঞ্চলে এখনো দুই হাজারের বেশি অগ্নিনির্বাণ কর্মী ও ৫০০টি অগ্নিনির্বাপক যান মোতায়েন রয়েছে, পাশাপাশি ফ্রান্সের সেনা আরক্ষী বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও কাজ করছেন।

রিবোত নামক গ্রামের কাছে মঙ্গলবার আগুন লাগার পর থেকে এখন পর্যন্ত একজন বৃদ্ধা নারী মারা গেছেন ও অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনই অগ্নিনির্বাণ কর্মী।

দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন ও বহু ঘরবাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে ওদ প্রশাসন।

অগ্নিনির্বাণ অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা ক্রিস্টোফ ম্যাগজ বৃহস্পতিবার ফ্রান্স ইনফোকে জানান, তারা আশা করছেন আজকের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে।

রাতভর তোলা ছবি ও ফুটেজে দেখা যায়, দমকলকর্মীরা ১৬ হাজার হেক্টর এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়া এ আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বুধবার থেকে তাপমাত্রা ও বাতাসের গতি কিছুটা কমে আসায় আগুনের তীব্রতা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। পানি ছিটানো বিমানগুলোও আগুন নেভাতে সহায়তা করছে।

স্যাটেলাইট ছবিতে আগুনের ধোঁয়া ও বিশাল এলাকা জুড়ে পুড়ে যাওয়া জমির চিত্র ধরা পড়েছে, যা ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা স্পষ্ট করে তুলেছে।

আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত বাসিন্দাদের ঘরে ফিরে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৭টি অস্থায়ী আবাসন কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

করবিয়ের অঞ্চলের গ্রামগুলো এখনো উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম। কর্মকর্তারা বলছেন, এটি ১৯৪৯ সালের পর ফ্রান্সে হওয়া সবচেয়ে বড় দাবানল।

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বায়রু একে ‘চরম মাত্রার বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেছেন।

দাবানল-কবলিত ওদ অঞ্চলে বুধবার এক পরিদর্শনে গিয়ে বায়রু বলেন, এ দাবানল জলবায়ু পরিবর্তন ও খরার সঙ্গে সম্পর্কি।।

পরিবেশমন্ত্রী আনিয়েস পানিয়ে-রুনাশেও দাবানলকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলে উল্লেখ করেন।

কর্মকর্তারা আরো জানান, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে প্রবল বাতাস, শুষ্ক উদ্ভিদ ও প্রচণ্ড গরম আবহাওয়া দায়ী।

জঁকিয়ের গ্রামের মেয়র জাক পিরো বলেছেন, গ্রামটির প্রায় ৮০ শতাংশ আগুনে পুড়ে গেছে। তিনি ফরাসি দৈনিক লে মোঁদকে বলেন, ‘চিত্রটা ভয়াবহ। চারপাশে শুধু কালো ছাই আর পোড়া গাছপালা।’

জনগণকে ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বুধবার বলেন, ‘জাতির সব সম্পদই এ দুর্যোগ মোকাবিলায় মোতায়েন করা হয়েছে।’
…বিবিসি

You cannot copy content of this page