চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ঘুষ না দিলে লাগবে কৃষক/শ্রমিক পেশার প্রত্যয়নপত্র:ঘুষ নিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে দালাল থেকে অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা


চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৫, ২০২৫, ৫:২০ অপরাহ্ন /
চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ঘুষ না দিলে লাগবে কৃষক/শ্রমিক পেশার প্রত্যয়নপত্র:ঘুষ নিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে দালাল থেকে অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা
বহু রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বছর পার না হতেই এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছেন ঘুষ বাণিজ্য।

পাসপোর্টের নাম সংশোধনে ৩০ থেকে ৩২ হাজার, জন্ম তারিখ বদলাতে ৫০ হাজার। নতুন পাসপোর্ট করতে গেলে ৪ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা ঘুষ! তুঘলকি এ কাণ্ড চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নিত্যদিনের।

সিন্ডিকেট তৈরী করে নির্দ্বিধায় ঘুষ নিচ্ছেন তারা । এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা হলেন একাউট্যান্ট আমিনা খাতুন, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর এসএম গোলাম আজম, অফিস সহকারী সাদেকুর রহমান, মুদ্রাক্ষরিক দীপংকর বিশ্বাস, অফিস সহায়ক ওদিদুর রহমান সহ চুয়াডাঙ্গা ভিমরুল্লায় অবস্থিত পাসপোর্ট অফিসের সামনের কিছু ফটোকপি/কম্পিউটারের দোকানদার সাথে আনসার এমনকি দারোয়ান।

পুরো অফিসের আশপাশে দালাল সিন্ডিকেটের শক্ত জাল। এসব ভেদ করে বৈধ পথে পাসপোর্ট করা অসম্ভব চুয়াডাঙ্গাবাসির। অনুসন্ধানে ধরা পড়ে সে অফিসের দূর্নীতির ভেতর-বাহির। ধরা পড়ে  ঘুষ বাণিজ্যের  সব ঘটনা।

অভিযোগ পাওয়া যায়, চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে বৈধ পথে গেলে কেউ নাকি করতে পারেন না পাসপোর্ট- এমন অভিযোগ পেয়ে গত ২৮ জুলাই থেকে পাসপোর্ট অফিস নিয়ে অনুসন্ধান চালায় আমরা ।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, সোমবার দুপুরে কয়েকজন নাগরিক লিখিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, অফিসের ফ্রন্ট ডেস্ক থেকেই আবেদনকারীদের অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়ার শর্ত চাপিয়ে দেয়া হয়, যাতে তারা বাধ্য হয়ে দালাল বা বন্দোবস্তকারীর মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে পাসপোর্ট করতে রাজি হন। অভিযোগকারীদের দাবি, অবিবাহিত হলে ‘অবিবাহিত প্রত্যয়নপত্র’ এবং বিবাহিত হলে ‘কাবিননামা’ জমা দিতে বলা হচ্ছে।

আবার কেউ পেশা হিসেবে ‘শ্রমিক’ উল্লেখ করলে তাকেও দিতে হচ্ছে প্রত্যয়নপত্র। অথচ এসব শর্ত অনেক ক্ষেত্রেই পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়ায় বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু বন্দোবস্তকারীর মাধ্যমে আবেদন করলে এসব কাগজ ছাড়াই কাজ সম্পন্ন হচ্ছে, তবে অতিরিক্ত খরচ পড়ছে ২,২০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা পর্যন্ত। লিখিত অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও জমা দেওয়ার কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং তাকে অফিস থেকে বের করে দেয়।

পরে নিকটস্থ একটি কম্পিউটার দোকানে গেলে দোকানদার জানান, ২,৫০০ টাকা দিলে কোনো ঝামেলা ছাড়াই কাজ হয়ে যাবে। একই অভিযোগ করেন মো. নিশান ইসলাম জানান, অফিসে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে তার কাজ আটকে দেওয়া হয় এবং খারাপ আচরণ করা হয়। পরে কম্পিউটার দোকান থেকে তাকে জানানো হয়, ২,৫০০ টাকা দিলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হবে। অন্যদিকে মো. মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন (ঙওউ-১০২৯৭১৭২৮৭) জমা দিলেও ইমেইল ঠিকানায় নিজের নাম না থাকায় অফিস তা ফেরত দেয়।

কিন্তু একই ফাইল কম্পিউটার দোকান থেকে ২,২০০ টাকা দিয়ে জমা দিলে কোনো সমস্যা ছাড়াই তা গৃহীত হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগে আরও জানা যায়, সোমবার দুপুরে এসব অনিয়ম নিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং অফিস প্রাঙ্গণে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ।

বহু রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বছর পার না হতেই এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছেন ঘুষ বাণিজ্য। দুটো তদন্তের মাধ্যমে বৈষম্য বিরোধী বাংলাদেশে এই সমস্ত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিভাগীয় তদন্তপূর্বক শাস্তি দাবি করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলাবাসী।

You cannot copy content of this page