ভোলায় গৃহবধূকে ধর্ষণে অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিলেন ছাত্রদল-কৃষক দল নেতা


স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৩, ২০২৫, ৫:২১ পূর্বাহ্ন /
ভোলায় গৃহবধূকে ধর্ষণে অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিলেন ছাত্রদল-কৃষক দল নেতা

ভোলার চরফ্যাশনে এক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের পর গ্রামবাসীর হাতে আটক হওয়া অভিযুক্ত ধর্ষককে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার একটি ইউনিয়নের ওয়ার্ড কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক জসিম ঢালী এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জে.বি আব্বাসসহ তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

ওই এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন ও সাইফুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা এবং ভুক্তভোগী পরিবার দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

গত বুধবার রাতে উপজেলার চরমাদ্রাজ ইউনিয়নের কেরামতগঞ্জ বাজারের পাশে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগী পরিবার দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে স্থানীয় কেরামতগঞ্জ বাজারের দধি ব্যবসায়ী দুলাল মোল্লা এক জেলের স্ত্রী প্রতিবন্ধী গৃহবধূর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে দুলাল মোল্লাকে ওই নারীর ঘর থেকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেন। আটকের খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে চরমাদ্রাজ ইউনিয়নের ৭ নাম্বার ওয়ার্ডের কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক জসিম ঢালী ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জেবি আব্বাস জনতার হাত থেকে দুলালকে ছিনিয়ে নেন। পরে ধর্ষণের শিকার নারী ও তার স্বামীকে মামলা না করার জন্য হুমকি দেন।

ভুক্তভোগী জানান, প্রতিবেশী ব্যবসায়ী দুলাল মোল্লা তাকে প্রায় সময়ই কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার দিন তার স্বামী নদী থেকে ফিরে বাজার করার জন্য কেরামতগঞ্জ বাজারে যান। এ সুযোগে দুলাল তার বাড়িতে গিয়ে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলেন এবং তার স্বামী কোথায় আছেন জানতে চান। স্বামী বাড়িতে নেই শুনে তিনি তাকে জাপটে ধরে ধর্ষণ করেন।

গৃহবধূর স্বামী জানান, ফিরে এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে তিনি স্ত্রীকে ডাকেন। পরে ভেতর থেকে পুরুষের শব্দ পেয়ে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়ে প্রতিবেশীদের খবর দেন। এ সময় দুলাল ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।

এ ঘটনার পর দুলাল মোল্লা ও জসিম ঢালী আত্মগোপনে রয়েছেন। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় শুনে দুলাল মোল্লা কল কেটে দেন।

অন্যদিকে ছাত্রদল নেতা জেবি আব্বাস দাবি করেন, দুলাল মোল্লাকে স্থানীয়রা মারধর করছিল, তাই তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। আমি কোনো ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত নই।

এ বিষয়ে চরফ্যাশন থানার ওসি মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

You cannot copy content of this page