ফিরে দেখা জুলাইঃ বৃষ্টি উপেক্ষা করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ


সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২, ২০২৫, ৬:২৮ পূর্বাহ্ন /
ফিরে দেখা জুলাইঃ বৃষ্টি উপেক্ষা করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ

চব্বিশের ২ আগস্ট হাজার হাজার মানুষ রাজধানীসহ সারাদেশে বৃষ্টি উপেক্ষা করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করেছেন। তারা হত্যাকাণ্ডের বিচার ও গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানান। এদিন হবিগঞ্জ ও খুলনায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন পুলিশ সদস্য। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের সংঘর্ষে এ দিন কমপক্ষে ১৫০ জন আহত হন।

সারাদেশে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমা চাওয়াসহ ৯ দফা দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা ২ আগস্ট ঘোষণা দেন, তারা ৩ আগস্ট সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল এবং ৪ আগস্ট থেকে ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ আন্দোলন করবেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মাহিন সরকার এদিন রাতে হোয়াটসঅ্যাপে এক বার্তায় এ ঘোষণা দেন। তিনি সর্বস্তরের জনগণকে এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও একই বার্তা শেয়ার করেন।
আরেক সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ ফেসবুক লাইভে এসে ৩ আগস্ট দেশব্যাপী বিক্ষোভের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ৪ আগস্ট থেকে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন পালন করা হবে। কেউ ট্যাক্স এবং গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করবে না। সচিবালয়সহ সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে এবং গণভবন ও বঙ্গভবনে যানবাহন ঢুকতে দেওয়া হবে না।

হান্নান বলেন, জনগণকে এমনভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে সরকার স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে যেতে না পারে। এর আগের দিন ১ আগস্ট আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, নুসরাত তাবাসসুম ও আবু বাকের মজুমদার  ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজত থেকে মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার পর তারা এক যৌথ বিবৃতিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন এবং আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার দাবি করেন। ডিবি কার্যালয় থেকে দেওয়া আন্দোলন প্রত্যাহারের বিবৃতি প্রসঙ্গে তারা বলেন, ওই বিবৃতি তারা স্বেচ্ছায় দেননি।
বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে ‘দ্রোহযাত্রা’ নামে শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, অভিভাবক এবং নাগরিক সমাজের সদস্যরা গণমিছিল বের করেন। এদিন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬২৬ শিক্ষক চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

৩২ শিশু নিহত হওয়ার তথ্য জানায় ইউনিসেফ
ইউনিসেফের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক সঞ্জয় উইজেসেকেরা এক বিবৃতিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিশুদের ওপর সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ সফর শেষে তিনি বলেন, ইউনিসেফ নিশ্চিত হয়েছে, জুলাই মাসের বিক্ষোভে অন্তত ৩২ শিশু নিহত হয়েছে এবং অনেকেই আহত ও আটক হয়েছে। ইউনিসেফ এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শুধু জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে শিশুসহ অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছেন।

You cannot copy content of this page