রাজশাহী ডিএনসির “ক” সার্কেল পরিদর্শক আওয়ামী দোসর রায়হান খানের বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী’র বিভিন্ন মাদক স্পট থেকে মাসে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগঃ নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়


স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশের সময় : জুলাই ২৮, ২০২৫, ৫:২৪ অপরাহ্ন /
রাজশাহী ডিএনসির “ক” সার্কেল পরিদর্শক আওয়ামী দোসর রায়হান খানের বিরুদ্ধে  গোদাগাড়ী’র বিভিন্ন মাদক স্পট থেকে মাসে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগঃ নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়
২৪ শের জুলাই আন্দেলনে লাখো জনতার রক্তের বিনিময়ে পাওয়া বৈষম্যেবিরোধী বাংলাদেশে এখনো দেদারসে ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন শেখ হাসিনার প্রেতাত্মা আওয়ামী দোসর রাজশাহী ডিএনসির পরিদর্শক  রায়হান খান ,ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত কাল টাকা দিয়ে   নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড় ।
এখন বিভিন্ন নিরিহ মানুষকে   ভুয়া মামলা দেয়া সহ মাদক স্পট থেকে মাসে ৩০ লক্ষাধিক টাকা ঘুষ বাণিজ্য করে হয়েছেন কোটি কোটি টাকার মালিক।
এভাবেই এই অবৈধ কালো টাকায় তিনি নামে বেনামে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। রয়েছে একাধিক ব্যাংক একাউন্ট।
থাকেন আলিশান ফ্লাটে, চড়েন ৫০ লক্ষআধিক টাকা দামের বিলাশবহুল গারিতে।
  ৮ম গ্রেডের ১জন কর্মকর্তা যার বেতন সর্ব সাকুল্লে ৩০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা ।
জনমনে প্রশ্ন দ্রব্যমূল্যের এই উর্ধগতির বাজার যেখানে জীবন চালাতে হিমশিম খেতে হয় জীবন চালাতে, সেখানে এই টাকা আয় করে এতো আলিশান জীবন যাপন করেন কি ভাবে?
‘অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন মাদক স্পট থেকে প্রতি মাসে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের  নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়,
মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়া’র ভিশন, দেশে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার, অবৈধ পাচাররোধে এনফোর্সমেন্ট,  আইনী কার্যক্রম জোরদার, মাদকবিরোধী গণসচেতনতা সৃষ্টি এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দেশে মাদকের অপব্যবহার কমিয়ে আনার মিশন নিয়ে কাজ করছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এ ভিশন ও মিশন নষ্টে কাজ করছেন কতিপয় অসাধু কর্মকর্তারা। সরকারের অর্জন ও সুনাম বিনষ্টে এসব অসাধু কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত মাদক স্পট থেকে গ্রহণ করছে মাসোহারা।
মাদক কারবারি বা গডফাদাররা গ্রেফতার না হলেও সাধারণ মানুষকে ফাঁসানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মাসিক মাসোহারা আদায় ও ব্যক্তি আক্রোশে
অনেককেই পলাতক মামলায় জড়ানো হচ্ছে।
আবার দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকায় জড়িয়ে পড়ছে মাদক সিন্ডিকেটে।
পদ্মা নদী ঘেরা রাজশাহী শহরের কয়েকটি থানা সীমান্তবর্তী ভারতের সংলগ্ন হওয়ায় মাদকে ছয়লাব হয়ে পড়েছে । রাজশাহী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে দৃশ্যমান বড় মাদক চালান না ধরা হলেও প্রতিনিয়তই মাদক সেবীদের গ্রেফতার করছেন তাঁরা।
এদিকে পুলিশ ও র‍্যাবের জালে ধরা পড়ছে মাদকের বড় বড় চালান।
আসলে মাদক নিয়ন্ত্রণে বেশিরভাগ কাজ করা উচিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে। রাজশাহীর গোদাগাড়ী, চারঘাট, বাঘা সিমান্ত এলাকা দিয়ে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমানে মাদক আসছে রাজশাহী শহরে।
রাজশাহী শহর হয়ে ওই মাদক চলে যাচ্ছে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রাপ্তে।
অভিযোগ উঠেছে শুধু রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা থেকে ডিএনসি’র পরিদর্শক রায়হান আহমেদ খান প্রায় ৩০ লাখ টাকা মাসোহারা উত্তোলন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ সালে রাজশাহী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে পরিদর্শক হিসাবে যোগদান করেন রায়হান আহমেদ খান। এরপর থেকে বিরোধী মতের বিএনপি’র রাজনৈতিক ব্যক্তিদের টার্গেট, মামলা ব্যানিজ্যসহ মিথ্যা মামলা প্রদান করেন তিনি। প্রতিমাসে গোদাগাড়ীসহ বিভিন্ন মাদক স্পট থেকে বিপুল পরিমাণের মাসোহারা উত্তোলনও করেন ।
তিনি প্রতি সপ্তাহে থিম ওমর প্লাজার পাশের একটি দোকান ৯ হাজার টাকার বিদেশি সিগারেট কিনেন। মাসে ২৭ হাজার টাকার বিদেশি সিগারেট কিনেন তিনি।
সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল এন্ড কলেজের পাশে মায়াবন নামক বিশাল এক ফ্লাট নিয়ে থাকেন রায়হান। চড়েন নিজস্ব গাড়িতে। গাড়িটির বর্তমান বাজারমূল্য ৫০ লক্ষ টাকা। এতো টাকা আয়ের উৎস খুঁজে দেখা উচিত বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুবাদে গড়ে তুলেছেন মাদকের বড় সিন্ডিকেট।
জব্দকৃত অরিজিনাল মাদক উদ্ধার করে আসামি চালান করেন মেডি নামক এক দ্রব্য দিয়ে। পরে অরিজিনাল মাদক গুড়িপাড়ায় বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার এমন কিছু ভুক্তভোগী জানান, মিথ্যা মামলাসহ শুধুমাত্র হয়রানির লক্ষ্যে পলাতক আসামী করা হয়েছে তাঁদের। আটকের পরে মোটা অংকের উৎকোচ দাবি করেছিলেন পরিদর্শক রায়হান।
অপর এক ব্যক্তি বলেন, তিনি গাঁজা খেতেন। গাঁজা না পেয়ে তাঁকে হেরোইন মামলা দেওয়া হয়েছে।
অন্য আরেক মাদক সেবী বলেন, আমি মাদক সেবন করি এটা সত্য। কিন্তু আমাকে ধরে হেরোইন দিয়ে মামলা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিহিংসা ও আক্রোশের শিকার এমন অনেক ভুক্তভোগী বলেন প্রকৃত মাদক কারবারি বা বড় বড় ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করেন না তাঁরা। ওইসব ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে বড় অংকের টাকা নেন তিনি।
গোদাগাড়ী’র সুমন নামে এক ব্যক্তি বলেন, প্রতিমাসেই একজন সিপাই দিয়ে এসব মাদক কারবারির নিকট থেকে মাসোহারা উত্তোলন করা হয়।  মাদক কারবারিদের প্রেসক্রিপশনে কাউকে ফাঁসাতে হলে তাঁর বাড়ির পাশে মাদক লুকিয়ে অভিযানের নাটক সাজানো হয়। এরপর চলে দেনদরবার। টাকা দিলেও আসামী হবে, না দিলেও আসামী হবে। টাকা দিলে মাদকের পরিমান কমে, না দিলে বেড়ে যায় পরিমাণ।
সম্প্রতি গোদাগাড়ী’র পরমান্দপুর প্লট ব্যবসায়ী ও কৃষক পিয়ারুলের বাসায় অভিযান পরিচালনা করেন পরিদর্শক রায়হান। যদিও পিয়ারুল ওই বাসায় থাকেন না। তিনি চরে এলাকায় তার জমি জমা নিয়ে পড়ে থাকেন। তার বিরুদ্ধে পলাতক একটি মাদক মামলা রয়েছে। যদিও পিয়ারুলের দাবি প্রতিহিংসা বশত পলাতক মামলায় আসামী করা হয়েছে তাকে।
ওই দিনের অভিযানে পিয়ারুলের বাড়িতে চলে অমানবিক নির্যাতন। শিশু বাচ্চাসহ পিয়ারুলের স্ত্রী ও প্রতিবেশি দুজন ব্যক্তিকেও মারধর করা হয়। পিয়ারুলের স্ত্রীর দাবি আমার স্বামী যদি অপরাধী হয় তাহলে তাঁকে বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি দেন।
এর জন্য আমাদেরকে কেনো নির্যাতন করা হলো? ওই ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর দু দফায় আবারও পিয়ারুলের বাসায় যায় ডিএনসি’র একটি দল।
এরপরও পরিদর্শক রায়হান উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের অনুমতিবিহিন তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানায়। প্রশ্ন থাকে একজন সরকারি কর্মকর্তা উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের অনুমতিবিহিন সংবাদের প্রতিবাদ দিতে পারেন কি না?
উল্লেখ, ২০২৩ সালের পর থেকে প্রতিমাসের মাদক উদ্ধারসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রাজশাহী শাখার রিপোর্ট অনলাইনে দেওয়া হয় না। শুধু মাত্র প্রতিনিয়তই আটক ব্যক্তিদের নাম ছাড়া তথ্য দেওয়া হয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রাজশাহীর অনলাইনে।
পতিত শেখ হাসিনা সরকারের টানা প্রায় ১৬ বছেরর শাসনামলে নিজেকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর  কাছের মানুষ পরিচয় দিয়ে কর্মস্থলগুলোতে নিজস্ব ক্ষমতার বলয় সৃষ্টি করে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি সিন্ডিকেট।
এছাড়া জুলাই আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমাতে তিনি তার অফিসে প্রায় রাতেই কতিপয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাদের সাথে গভীর শলাপরামর্শ করতেন বলে জানা যায়। তাছাড়া ছাত্র আন্দোলন দমন করতে সংগোপনে মোটা অংকের টাকা লগ্নী করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।  
তাই এই অফিস থেকে রাজশাহী ডিএনসির পরিদর্শক আওয়ামী দোসর রায়হানকে অপসারণ পূর্বক তাদের অবৈধ সম্পদের খোঁজতল্লাশি নিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ হাসান মারুফ মহোদয়সহ দুদকের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক রায়হান আহমেদ খান বলেন, আমি ফোনে কোনো বক্তব্য দিবো না। স্বাক্ষাতে আসলে বক্তব্য দিবো।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, আমি এখন জুম মিটিং এ আছি। পরে কথা বলবো। পরে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

You cannot copy content of this page