
এক্সপ্রেস মুন্সিগঞ্জ
চুয়াডাঙ্গার মুন্সিগঞ্জে শিলা খাতুন নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। আজ সোমবার সকালে আলমডাঙ্গার মুন্সিগঞ্জ রেল স্টেশনের অদূরে ওই তরুণীর লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার বলিয়ারপুর গ্রামের হামিদুলের মেয়ে শিলা খাতুনের সাথে একই উপজেলার মুন্সিগঞ্জ রোয়াকুলি গ্রামের রফিকুলের ছেলে হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী রাসেলের বিয়ে হয়। সংসার জীবনে তাদের রায়হান নামে দুই বছরের একটি ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর ভালোই চলছিলো সংসার। এরই মাঝে স্বামী রাসেল নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েন। মাঝে মধ্যেই নেশা করার জন্য স্ত্রী শিলার সাথে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো। গতকাল রোববার রাতেও ্ে নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে শিলা খাতুন ছেলে রায়হানকে ঘুম পাড়িয়ে বাড়ি থেকে রাত ৩টার দিকে বেরিয়ে যান বলে জানান স্বামী রাসেল। সকালে শিলা খাতুনের লাশ পাওয়ার পর থেকে স্বামী রাসেল পলাতক রয়েছেন।
নিহত শিলা খাতুনের ভাই জুয়েল জানান, ‘রাত ৩টার দিকে আমার মোবাইলে কল দিয়ে বড় বোন শিলাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে জানান রাসেল। আমি ওই রাতেই আমার পিতাসহ পরিবারের লোকজনকে সাথে নিয়ে বোনের শ^শুরবাড়ি রোয়াকুলিতে আসি। সেখান থেকে ঘটনা শুনে আমার বোন শিলাকে খুঁজতে বের হয়। এক পর্যায়ে সকালে লোকমুখে শুনে আলমডাঙ্গা মুন্সিগঞ্জ রেল স্টেশনের অদূরে আমার বোনের লাশ খুঁজে পায়। তার মাথায় ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন আছে। তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন যাবত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের চলছিল। বোনের স্বামী রাসেল আমাকে বলেছিল ডিভোর্স দিতে কাবিননামার টাকা পরিশোধ করতে হবে এ কারণে এখনি ডিভোর্স দেবে না। অপরদিকে বোন শিলা আমাদের জানিয়েছিল, শ্বশুর বাড়িতে স্বামীসহ তার পরিবারের লোকজন নিয়মিত নির্যাতন করতো। তাই আমরা যেন নিজেরাই ডিভোর্স দিয়ে দিই। যেন রাসেলের টাকা না লাগে।
নিহত শিলা খাতুনের পিতা হামিদুল জানান, ‘আমার জামাই রাসেল অনেক আগে থেকেই নেশাগ্রস্ত। এ নিয়ে প্রায়ই তার সাথে আমার মেয়ের ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকতো। অনেক কষ্ট করেও আমার মেয়ে তার সংসার আকড়ে ধরে ছিলো। আমার মেয়েকে হত্যা করে লাশ রেল স্টেশনের অদূরে ফেলে রেখে গেছে। পরে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে আমার ছেলের মোবাইলে ফোন দেয়া হয়। আমার মেয়ের মাথায় ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন আছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।’
নিহতের পরিবারের বিরাত দিয়ে মুন্সিগঞ্জ পুলিশ ফাড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুবল কুমার বলেন, নিহতের ভাই জানিয়েছেন, রাতে শ্বশুর বাড়িতে কোন বিষয়ে গণ্ডগোল হয় শিলা খাতুনের সঙ্গে। রাত ৪ টার পর থেকে শিলা খাতুনকে পাওয়া যাচ্ছিল না। সকালে রেললাইনের উপর মরদেহ দেখতে পাই স্থানীয়রা। তার শরীরে ধারাল অস্ত্রের আঘাতের জখম রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ রেললাইনে ফেলে রাখা হয়। রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মরদেহ উদ্ধার করবে।
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা বলেন, সকালে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :