প্রেমের বিচ্ছেদ মানতে নারাজ প্রেমিক-প্রেমিকা যুগল


Rokonuz Zaman প্রকাশের সময় : মে ৮, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ন /
প্রেমের বিচ্ছেদ মানতে নারাজ প্রেমিক-প্রেমিকা যুগল
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
ভালোবেসে বিয়ে করতে ঘর ছেড়েছিলেন প্রেমিক যুগল। স্বপ্ন ছিল নতুন জীবনে পদার্পণের। সেই সম্পর্কে পাহাড় হয়ে দাঁড়ান তরুণীর মা। তরুণের নামে করেন অপহরণ মামলা। পরে পারিবারিকভাবে আপস করতে নেয়া হয় ইউনিয়ন পরিষদের সালিশ।
কিন্তু সালিশে আশাহত হন প্রেমিক যুগল। নির্দেশনা আসে একে অপরকে ভুলে যাওয়ার। কিন্তু এই নির্দেশনা মানতে নারাজ দুজনই। কেউ কাউকে ছেড়ে যেতে রাজি নন। প্রিয় মানুষটিকে হারানোর বেদনায় একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রেমিক-প্রেমিকা। বাবা-মার টানা হেঁচড়া, সালিশের কঠোর সিদ্ধান্ত ও চারপাশের মানুষ কিছুই যেন আলাদা করতে পারছিল না তাদের।
সেই আবেগঘন মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শুরু হয় তোলপাড়। মুহূর্তেই ভাইরাল হয় ভিডিওটি। ঘটনাটি কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার রৌমারী ইউনিয়ন পরিষদের।
প্রেমিক কবির হোসেন (১৯) একই উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের পদ্মার চর এলাকার জাহিদুর ইসলামের ছেলে। প্রেমিকা রৌমারী ইউনিয়নের বাসিন্দা।
জানা যায়, ২৭ এপ্রিল কবির হোসেন তার প্রেমিকাকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর ব্যর্থ হয়ে তরুণীর মা আজিরন বেগম রোববার (৩ মে) রৌমারী থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন।
মামলার পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্থানীয়ভাবে ইউনিয়ন পরিষদে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। এসময় তরুণীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় প্রেমিক-প্রেমিকা একে অপরকে ছাড়তে না চাওয়ায় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। উপস্থিত কেউ ওই দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ছেলে-মেয়ে প্রেম করে পালিয়েছিল। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে আমার এখানে বৈঠক হয়। কিন্তু ছেলে-মেয়ে কেউ কাউকে ছেড়ে যেতে রাজি ছিল না। এ নিয়ে কিছুটা ঝামেলার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী বলেন, শুক্রবার রাতে ছেলে-মেয়েকে পরিষদ থেকে উদ্ধার করা হয়। এসময় অপহরণ মামলায় মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার সকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওই তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুড়িগ্রামে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

You cannot copy content of this page