রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর গঙ্গাচড়া জোনাল অফিসের এসিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে আশেকুল ইসলাম নামের এক পল্লিবিদ্যুৎ গ্রাহক।
আশেকুল উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের উমর বালাটারী গ্রামের এন্দাজ আলীর ছেলে।
গত সোমবার (১৩ নভেম্বর) রংপুরে গঙ্গাচড়া জুটিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৩ এর বিচারক সোহেল রানার আদালতে মামলা করা হয়।
মামলায় আসামীরা হলো গঙ্গাচড়া জোনাল অফিসের এসি আজিজুল ইসলাম (৫০),
রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-০২ (বি.এস শারমিনা আক্তার (৪৫), রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি(পি.ও.সি) রেজাউল ইসলাম রেজা (৫০), রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-০২ মিটার টেস্টার মহসিন আলী, মিটার
রাইডার শরিফুজ্জামান (৪৮) ।
মামলার বিবরণে জানা যায়, আশেকুল ইসলাম রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -০২ এর আওতায় গঙ্গাচড়া জোনাল অফিসের একজন আবাসিক গ্রাহক। তার হিসাব নং- ৫৯/৩০৪০, মিটার নং- ১১২৪৪৪৮৫, ইতিমধ্যে মিটারে ব্যবহৃত ইউনিট ১০,০০০ (দশ হাজার)।
গত ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার রাত অনুমান ১১.৪৫ মিনিটে আসামীগণ অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জনসহ আশেকুলের বসতবাড়ীতে পরস্পর যোগসাজশে অনধিকার প্রবেশপূর্বক আশেকুল অবৈধভাবে বিদ্যুৎ
ব্যবহার করেছে মর্মে অভিযোগ তুলে তার বাড়ীর পাশে মুরগীর খামার হতে ০৬ (ছয়) টি
অটো চার্জার যার আনুমানিক মূল্য ৫১,০০০/- (একান্ন হাজার) টাকাসহ বাদীর নিজ নামীয় মিটারটি খুলে নিয়ে বাদীকে অতি দ্রুত গঙ্গাচড়া জোনাল অফিসে যোগাযোগ করতে বলে।
এ ঘটনার পরদিন আশেকুল গঙ্গাচড়া জোনাল অফিসে এসে এসি আজিজুল ইসলামের সাথে দেখা করে মিটার পুণঃ সংযোগ নেওয়ার আলোচনার সময় এসি আজিজুল ইসলাম তাকে সুকৌশলে এ.সি অফিসার এর রুমে নিয়ে যায়। তাৎক্ষনিকভাবে অভিযুক্তরা ওই রুমে গিয়ে রুমের দরজা ভিতর থেকে আটকিয়ে লোহার রড হাতে উঠাইয়া আশেকুলকে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন মর্মে তার নামে ১২,০০,০০০/- (বারো লক্ষ) টাকার মামলা দেওয়ার হুমকী প্রদান করে
চাঁদা হিসেবে ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা দাবী করে। এতে সে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা
বলে যে, অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারে হযরত আলী তোমাকে সহযোগীতা করেছে সেটা বলো। সেটা স্বীকার করলে বাদীর জরিমানার অংক কমিয়ে দিয়ে মিটার পুণঃ সংযোগ দিবে।
সেই সময় আশেকুল বন্দিদশায় থাকায় ভয়ে ভীত হয়ে আসামীগণের বলা কথাগুলি নিজ মুখে স্বীকার করে এবং আসামীগণ তাদের মোবাইল
ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে আশেকুলকে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের রুমে নিয়ে গিয়ে সেখানে সাদা কাগজে জোরপূর্বক ১টি টিপ ও স্বাক্ষর নেওয়া হয়। যা দিয়ে আশেকুলের বিরুদ্ধে মামলা করবে মর্মে হুমকী দেয়া হয়।
সেখানে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের
উপস্থিতিতে এসি আজিজুল বলে এ ঘটনায় হযরত আলীর নামে মামলা হবে। সেই মামলায় তোমাকে সাক্ষ্য দিতে হবে যে, হযরত আলী ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। পরে তাকে চার্জার ০৬টি ফেরৎ দেয়া হয়।
এবিষয়ে জোনাল অফিসের বি.এস শারমিনা আক্তার বলেন, আমি এবিষয়ে কিছু জানিনা, আমার অফিসের স্যারদের সাথে কথা বলেন আমাকে কেন ফোন করছেন। আমি কিছু বলতে পারবো না।
এসি আজিজুল ইসলাম জানান, আমরা তার কাছে টাকা চাই নাই, সে অবৈধ ভাবে হুক করে অটো রিক্সা চার্জ দিয়েছে। তাই তার অটো চার্জার অফিসে নিয়ে আসা হয়।
আইনজীবী আফজালুল ইসলাম বলেন, আমরা আদালতে মামলা ফাইল করেছি, আশা করি ন্যায্য বিচার পাব।
আপনার মতামত লিখুন :