
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে সালিস বৈঠক থেকে তিন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জনতা। বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে প্রেমিক ও তার তিন সহযোগী মিলে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী ১৫ বছরের ওই কিশোরী ঢাকায় গৃহপরিচারিকার কাজ করত। গত মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ৯টায় মুক্তাগাছার পদুরবাড়ী পৌঁছান।
সেখান থেকে নিজ বাড়ি (উপজেলার মানকোন ইউনিয়নের দিতুয়া গ্রাম) যাওয়ার পথে প্রতিবেশী প্রেমিক পংকজ চন্দ্র দে-এর (২৫) সঙ্গে তার দেখা হয়।
স্থানীয় সূত্র, পুলিশ ও কিশোরীর পরিবার জানায়, পংকজ তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ইজিবাইকে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে পংকজ নিজে এবং তার তিন সহযোগী—রোমান, এমরান ও আমির হোসেন মিলে কিশোরীটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর রাতেই তারা কিশোরীটিকে স্থানীয় আন্নেছ আলীর মাছের ঘেরের পরিত্যক্ত ঘরে ফেলে রেখে যায়।
পরদিন বুধবার দুপুরে এলাকাবাসী কিশোরীটিকে উদ্ধার করে পরিবারের হাতে তুলে দেয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্তরা প্রভাবশালী মহলে যোগাযোগ করে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সালিস বৈঠকের আয়োজন করে। বুধবার রাতে এই সালিস শুরু হলে সাংবাদিকরা উপস্থিত আছেন দেখে সালিসকারীরা সরে পড়েন। তখন জনতা সালিসে উপস্থিত থাকা তিন অভিযুক্ত পংকজ, রোমান ও এমরানকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ জানান, ঘটনার বিষয়ে অবগত হওয়ার পর কিশোরীর জবানবন্দি নিয়ে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আটককৃত তিনজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। অপর অভিযুক্তকে (আমির হোসেন) গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার পর আটক তিন ধর্ষককে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ধর্ষণের শিকার কিশোরীটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :