ইশ্বরগঞ্জে আঠারবাড়িতে ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্যঃ লেবু বাগান কেটে দখল, সাংবাদিককে হত্যার হুমকি


মিয়া সুলেমান, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১২, ২০২৫, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন /
ইশ্বরগঞ্জে আঠারবাড়িতে ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্যঃ লেবু বাগান কেটে দখল, সাংবাদিককে হত্যার হুমকি

ময়মনসিংহের ইশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর এলাকায় ভূমিদস্যুতা, মামলাবাজি ও বিভিন্ন অত্যাচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে স্থানীয় এক ব্যক্তি মঞ্জু (৫৫), পিতা মৃত আব্বাছ আলী, ও তার সহযোগীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে মঞ্জু ও তার সহযোগীরা মিলে সাহেব আলীর মালিকানাধীন একটি লেবু বাগান কেটে দখল করে নেয়। বাঁধা দিতে গেলে সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বেলা ৪:২০ মিনিটে বাগানের মালিক সাহেব আলীর পুত্র সাংবাদিক মিয়া সুলেমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে, তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতার কাছে অভিযোগ জানানো হলে তিনি বলেন, “মঞ্জু তো দোসর। তার কাজই মানুষের শান্তি নষ্ট করা।” অন্যদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান অভিযোগের বিপরীতে উল্টো দস্যু পক্ষের সপক্ষে উচ্ছেদের হুমকি দেন বলে জানা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মঞ্জু ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার নিরীহ মানুষের জমি ভুয়া দলিলের মাধ্যমে দখল করে আসছে। ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা মামলা দায়ের এবং দলিল জালিয়াতির মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। ফলে এলাকার অনেক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিনযাপন করছে।

ভুক্তভোগীদের একজন বলেন, “আমরা শান্তিতে থাকতে পারি না। মঞ্জু আমাদের জমির কাগজে কারচুপি করে দখল নিতে চায়। প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা দেয়।”
আরেকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসিন্দা জানান, “মঞ্জুর অত্যাচারে তার ভাই ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে গেছে। সে পুরোপুরি মামলাবাজ; মহল্লাবাসিকে শান্তিতে থাকতে দেয় না।”

সাবেক ইউপি সদস্য মুকশুদ আলী বলেন, “২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মঞ্জুর মিথ্যা মামলায় অন্তত চারটি পরিবারকে পথে বসিয়েছে। দলিল এজমালি করতে গিয়ে ভুল দাগ নম্বর দেখিয়ে প্রতারণা করেছে।”

এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। ভুক্তভোগীরা ইতোমধ্যে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে আঠারবাড়ি এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিক জীবনযাপন ফিরে আসে।

You cannot copy content of this page