কাউনিয়ায় বিতর্কিত চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ এখনো বহাল, প্রশাসনের নীরবতায় প্রশ্ন স্থানীয়দের


মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল, রংপুর প্রতিনিধি : প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৮, ২০২৫, ১১:৩৪ অপরাহ্ন /
কাউনিয়ায় বিতর্কিত চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ এখনো বহাল, প্রশাসনের নীরবতায় প্রশ্ন স্থানীয়দের
হত্যা ও নাশকতাসহ একাধিক মামলার আসামি হয়েও চেয়ারম্যান পদে বহাল, তিনটি সভায় অনুপস্থিতির পরও নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা।
রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার ৩নং কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ-এর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হত্যা, নাশকতা ও ফৌজদারি মামলার আসামি হয়েও তিনি এখনো চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদের নামে রয়েছে মামলা নং ৩৮/২০২৩ (দফা ১৪৩/৩৪১/৩০২/১১৪/৩৪ পেনাল কোড অনুযায়ী) এবং মামলা নং ১৭/২৪ (দফা ১৪৩/১৪৭/৩২৬/৩০৭/১১৪)। এসব মামলায় তিনি একাধিকবার কারাবন্দি ছিলেন।
সূত্র আরও জানায়, চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ পরপর তিনটি উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় অনুপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী, টানা তিন সভায় অনুপস্থিত থাকলে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের কথা থাকলেও, জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি জোরপূর্বক পুনরায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার নির্দেশদাতা ও অর্থের যোগানদাতা হিসেবে অভিযুক্ত। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন নাশকতা কর্মকাণ্ডও সংঘটিত হয়েছে বলে কয়েকজন ভুক্তভোগী দাবি করেছেন।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের বিরুদ্ধেও তথ্য গোপন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রেরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সচিব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহিদুল হকের কাছে মাসিক সভার সঠিক তথ্য না পাঠিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, একটি ভিডিও ফুটেজে সচিবকে এ বিষয়ে কথা বলতে শোনা গেছে।
কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিদুল হক বলেন,বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন আকারে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন,সচিব যদি বলে থাকে আমি দুই দিনের মিটিং মিস করেছি, তাহলে সে প্রমাণ দিক। আমি শুধু দুইটি মিটিংয়ে অনুপস্থিত ছিলাম।
এদিকে প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন
একাধিক মামলা ও প্রশাসনিক অনিয়ম থাকা সত্ত্বেও কেন এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
উল্লেখ্য, চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ একসময় রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ছিলেন।

You cannot copy content of this page