রাজউক জোন ৭/১–এর ইমারত পরিদর্শক আল নাঈম মুরাদের ঘুষ বাণিজ্যে জিম্মি ভবন মালিকরা


অতনু বর্মণ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৩, ২০২৫, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন /
রাজউক জোন ৭/১–এর ইমারত পরিদর্শক আল নাঈম মুরাদের ঘুষ বাণিজ্যে জিম্মি ভবন মালিকরা

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর জোন ৭/১–এর দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমারত পরিদর্শক আল নাঈম মুরাদের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গেন্ডারিয়া, সূত্রাপুর ও শ্যামপুর থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় ভবন নির্মাণ সংশ্লিষ্ট মালিক ও ডেভেলপার কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে তার ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের কারণে জিম্মি হয়ে আছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, মুরাদ নির্মাণাধীন ভবনে পরিদর্শনে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে নানা ত্রুটি দেখিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন এবং পরবর্তীতে মালিকদের কাছে সরাসরি অথবা মধ্যস্থতাকারী দালালের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে প্রমাণসহ উঠে এসেছে, পুরান ঢাকায় রাজউকের ভবন নির্মাণ নীতিমালা অমান্য করে ডেভিয়েশন, রাস্তার প্রশস্ততা, ইনডোর-আউটডোর অবকাঠামো পরিবর্তন এবং আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের মতো অসংখ্য অনিয়ম ঘটছে, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনুমোদন ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে রাজউক নোটিশ দিলেও, অদৃশ্য লেনদেনের মাধ্যমে সেগুলো রহস্যজনকভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

মাঠ অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ৩৩/১৩/এ, সতিশ সরকার রোড, গেন্ডারিয়ার মো: লুৎফর রহমান গং (রিটায়ার্ড রেল মাস্টার) রাজউক থেকে বৈধ কোনো অনুমোদন না নিয়ে শুধুমাত্র ছাড়পত্রের উপর ভিত্তি করে নিজের খেয়ালখুশি মতো ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, ইতিমধ্যে তৃতীয় তলার কাজ সম্পন্ন করেছেন।

আবাসিক ও বাণিজ্যিক উভয় ক্ষেত্রে ভবনের চারপাশে যতোটুকু ছাড়ার কথা তা মোটেও ছাড়া হয়নি, এমনকি নেই কোনো যথাযথ সেফটির ব্যবস্থাও, যা রাজউক আইন অবমাননা করার শামিল।

একই চিত্র মেলে ৩০/কে, হাজী আব্দুল কাদের মোল্লা টাওয়ার, সতিশ সরকার রোড, সাফা প্রোপারটিজ এক ডেভেলপার কোম্পানির ছয় ফুট রাস্তায় বহুতল নির্মাণ কাজে।

৩০/ক, সতীশ সরকার রোড গেন্ডারিয়ার সুরুজ্জামান মল্লিক গং এবং হোল্ডিং নং ৮৮/এ/২, ডিস্টিলারি রোড গেন্ডারিয়ার মো. আকবার হোসেন ছয় ফুট রাস্তায় আট তলা ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রেখেছেন, যাতে নির্মাণ আইন মানা হচ্ছে না এবং রাজউকের অনুমোদিত প্ল্যান নেই, শুধু ছাড়পত্রের উপর ভিত্তি করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ভবন কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া ৫৩/৭/৩, হরিচরণ দাস রোড গেন্ডারিয়ার ইমারত হোসেন গং, এল.এইচ প্রোপার্টিজ লিমিটেড এবং ৪৬ রজনী চৌধুরী রোড গেন্ডারিয়ায় আরেকটি নবনির্মিত ভবন রয়েছে। ভবন নির্মাণকারী কর্তৃপক্ষ সরু গলির ভিতরে নির্মাণ ও নির্মাণ অনুমোদন বোর্ড ও স্থাপনা সাইডে প্রদর্শন করেননি। ৫০ এস.কে দাস রোড, ব্যাটারি গলি, ৬০/৬১ এর পাশের ভবন কে.বি রোড গেন্ডারিয়াতেও একই চিত্র মিলেছে, ২ নং ফরাসগঞ্জ, সূত্রাপুরে নাজিমা গং এর নির্মাণাধীন বাড়ি, হোল্ডিং ৮ নং দ্বীন নাথ সেন রোড, হাজী মনিরুজ্জামান গং এবং হোল্ডিং ৪৯, মীরহাজীবাগ শ্যামপুরসহ ইত্যাদি স্থানেও একই ধরনের অনিয়ম বিদ্যমান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভবন মালিক  জানান, তার ভবনে নানান ত্রুটি ও উচ্ছেদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে এই ইমারত পরিদর্শক আল নাঈম মুরাদ দুই লক্ষ টাকা ঘুষ আদায় করেন। গত ২৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে গেন্ডারিয়ার ডিআইটি পুকুরপাড় এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ভবন মালিক কর্তৃক ঘুষ বাণিজ্য করেছেন এমন সব অভিযোগও পাওয়া গিয়েছে ইমারত পরিদর্শ আল নাঈম মুরাদের বিরুদ্ধে। রাজউক জোন–৭/১ এলাকায় চলমান অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষবাণিজ্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে মুরাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি উচ্ছেদ হওয়া ভবনগুলোর পুরোনো কাঠামোয় পুনর্নির্মাণ ও অনুমোদনবিহীন স্থাপনার বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। রাজউকের অভ্যন্তরে এ ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম শুধু রাজধানীর উন্নয়নকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে এসব অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে নগর উন্নয়ন আরো জটিল হবে। পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে আল নাঈম মুরাদের আওয়ামী সহযোগিতায় চাকরি ও অর্থ সম্পদের পাহাড় পড়ার বিষয়টি উঠে আসবে।

এ বিষয়ে জানতে  অভিযুক্ত ইমারত পরিদর্শক আল নাঈম মুরাদের সরকারি মোবাইলে একাধিক বার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি ।

You cannot copy content of this page