ঠাকুরগাঁওয়ে অসময়ের বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি


ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২, ২০২৫, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন /
ঠাকুরগাঁওয়ে অসময়ের বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি

​সাম্প্রতিক সময়ে ঠাকুরগাঁওয়ে টানা তিন দিনের অক্টোবর ২০২৫-এর শেষ ও নভেম্বর ২০২৫-এর প্রথম দিকে অসময়ের বৃষ্টি এবং দমকা বাতাসের কারণে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
​ আমন ধান কাটার আগ মুহূর্তে মন্দার প্রবাহে দমকা বাতাস ঝাড়া বৃষ্টিতে কৃষকের মাথায় হাত।

বেশি ভাগ ধানি জমিন ​মাটিতে নুয়ে পড়েছে। ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে মাঠে পেকে যাওয়া আমন ধানের গাছগুলো মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।

​ধান পচে যাওয়ায় অনেক কৃষক ধান কেটে মাঠে শুকানোর জন্য রেখেছিলেন, কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সেই কাটা ধান ভিজে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ধান পানিতে তলিয়েও গেছে।
​বৃষ্টির কারণে ধান কাটা পিছিয়ে যাচ্ছে।

​ক্ষতির পরিমাণ, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শতাধিক হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।
​আলু চাষ

​বীজ পচে যাওয়া যেসব কৃষক আগাম জাতের ধান কেটে ইতোমধ্যে আলুর বীজ বপন করেছেন, তাদের জমিতে পানি জমে যাওয়ায় সেই আলুর বীজ পচে নষ্ট হয়েগেছে।

​রোপণ পিছিয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি থাকায় আলু রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত এবং রোপণের কাজ পিছিয়ে গেছে।
​ অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব ও অন্যান্য সমস্যা
​প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াও অর্থনৈতিক মন্দা এবং অন্যান্য কারণে কৃষকরা আলুর ক্ষেত্রে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন।
​আলুর ন্যায্য মূল্য না পাওয়া গত মৌসুমে আলু উৎপাদন ব্যাপক হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

​বাজারদর কম থাকায় (যেমন: প্রতি কেজি ১২ থেকে ১৫ টাকা) হিমাগারে সংরক্ষিত আলু বের করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে সংরক্ষণ খরচ, শ্রমিক খরচ সহ প্রতি কেজি আলুর খরচ ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পড়ছে।

​হিমাগারে পচন ও লোকসান ভালো দামের আশায় হিমাগারে রাখা আলুর চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও দাম না পাওয়ায় অনেক আলু বের করা হয়নি। দীর্ঘদিন সংরক্ষণের ফলে আলুতে পচন ধরছে, যার ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের চরম লোকসান হচ্ছে।

​সারের সংকট ও দাম বৃদ্ধির বিষয় টি কৃষকের আরো বেশি ভাবনার কারন ।আলু চাষের সময় (যেমন: নভেম্বর ২০২২-এর তথ্যানুসারে) কৃষকরা রাসায়নিক সার সময়মতো ও সঠিক দামে না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছিলেন। সারের দাম বেশি এবং পর্যপ্ত পরিমাণে সার না পাওয়ায় আলু চাষের খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে (একরে ১০-১৫ হাজার টাকা)।
​হিমাগারের ভাড়া বৃদ্ধি আলু সংরক্ষণের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়েও অতীতে কৃষকদের অসন্তোষ ও প্রতিবাদ দেখা গেছে।
​কৃষি বিভাগ জানিয়েছে যে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে কৃষকদের সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

You cannot copy content of this page