ঈশ্বরগঞ্জে সরকারি স্কুলের শতবর্ষী গাছ বিক্রির অভিযোগঃ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ


মিয়া সুলেমান, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২, ২০২৫, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন /
ঈশ্বরগঞ্জে সরকারি স্কুলের শতবর্ষী গাছ বিক্রির অভিযোগঃ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ৬৭ নং সুন্দাইলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনায় থাকা শতবর্ষী রেইনট্রি গাছটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট কৌশলে সরকারি সম্পত্তি নিজেদের নামে করে বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই গাছটি স্কুলের মাঠের এক কোণে ছিল এবং শিক্ষার্থীদের ছায়া দিয়ে আসছে। ২০২১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর একটি চক্র সার্ভেয়ার রিপোর্টের মাধ্যমে গাছটিকে ব্যক্তিমালিকানা দেখিয়ে নিজেদের নামে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা প্রতিবাদ জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পর ইউএনওর নির্দেশে গাছ কাটার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়। পরবর্তীতে ২৫ অক্টোবর পুনরায় গাছ কাটার চেষ্টা করলে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে আবারও তা বন্ধ করা হয়। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বিদ্যালয়ের জমির সীমানা পুনঃনির্ধারণ করা হয়।

৩০ অক্টোবর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সার্ভেয়ার মাঠে জরিপ করে দেখেন, গাছটির প্রায় ৮০ শতাংশ অংশ বিদ্যালয়ের জমির ভেতরে রয়েছে। তারা জানান, গাছটি সরকারি জায়গায় পড়ায় এটি সরকারি সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের সদস্য ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “এই গাছটি স্কুলের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের অংশ। একটি সিন্ডিকেট সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা চাই।”

গাছ বিক্রেতা কাওসার মিয়া বলেন, “সবাই জানে এটি সরকারি গাছ। ৫ বছর আগে বাউন্ডারি করার সময় গাছটি বাইরে পড়েছিল বলে বিক্রির কথা বলা হয়। এখন দেখা গেছে, গাছটি স্কুলের জায়গায় রয়েছে। প্রশাসন যা সিদ্ধান্ত দেবে, আমি তা মেনে নেব।”

গাছের ক্রেতা লোকমান হোসেন বলেন, “আমি আড়াই লাখ টাকায় গাছটি কিনেছিলাম। পরে ইউএনও ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের পরামর্শে ৮৩ হাজার টাকা স্কুলে জমা দিই। এখন প্রশাসনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নার্গিস আরা আকন্দ বলেন, “চলাচলের সুবিধার্থে গাছটি এক সময় বাউন্ডারির বাইরে রাখা হয়েছিল, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি স্কুলের জায়গাতেই ছিল।”

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাস জানান, “জরিপে দেখা গেছে গাছটির বেশির ভাগ অংশ স্কুলের জায়গার ভেতরে। তাই এটি সরকারি সম্পত্তি। চেয়ারম্যান নিজ উদ্যোগে জায়গা পুনঃনির্ধারণ করে বিভ্রান্তি তৈরি করেছেন। ইউএনও ম্যাডাম বিষয়টি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।”

You cannot copy content of this page