অষ্টগ্রামে মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতভিটাঃ আতঙ্কে স্থানীয়রা


কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১, ২০২৫, ৬:১০ অপরাহ্ন /
অষ্টগ্রামে মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতভিটাঃ আতঙ্কে স্থানীয়রা

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বাঙ্গালপাড়া গ্রামে মেঘনা নদীর প্রবল স্রোতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। গত কয়েকদিনে প্রায় এক হাজার ফুট নদীতীর ধসে পড়েছে নদীগর্ভে, এতে বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিন-রাত থেমে থেমে নদীর তীর ভাঙতে থাকায় আতঙ্কে রাত জাগছেন গ্রামবাসী। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পূর্বপাড়ার দুটি ঘর হঠাৎ নদীতে তলিয়ে যায়। ওই ঘটনায় ১২ বছরের এক শিশু পানিতে ডুবে গেলেও স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের নগাঁও থেকে নাসিরনগর চাতলপাড় পর্যন্ত নদীতীরজুড়ে চলছে ভয়াবহ ভাঙন। মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়ছে তীরের মাটি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যুৎ লাইন, খুঁটি ও শতাধিক বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

প্রবাসী আব্বাস উদ্দিন জানান, “আমাদের নওগাঁও গ্রামের প্রায় ৩০০ একর ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে। এখন বাড়িঘরও ঝুঁকিতে। আমরা ইউএনও ম্যাডাম ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করছি।”

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদীর খনন না হওয়ায় পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে স্রোতের চাপ বেড়ে গেছে। এর ফলে গত তিন দিনে প্রায় ৬০ হাত এলাকা নদীতে তলিয়ে গেছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাঙ্গালপাড়া ও নগাঁও গ্রামের অধিকাংশ অংশ নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নিলে নওগাঁও গ্রামের অধিকাংশ বাড়িঘর হারিয়ে যাবে, যা এলাকাবাসীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনবে।”

অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছা: দিলশাদ জাহান বলেন, “রবিবার আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করব। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের একটাই দাবি— মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও নদী খনন কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। নইলে কয়েকটি গ্রাম একে একে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।

You cannot copy content of this page