বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ বছরের শিশু নুসাইবার মর্মান্তিক মৃত্যু


বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩০, ২০২৫, ১:০৭ অপরাহ্ন /
বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ বছরের শিশু নুসাইবার মর্মান্তিক মৃত্যু
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের  রহমতপুরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়  নুসাইবা (৩) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ১২ টার দিকে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বাবুগঞ্জের রহমতপুর এলাকায় এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
জানা গেছে, রবিবার দুপুর ১২টার দিকে উজিরপুরের ইচলাদি স্ট্যান্ড থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে মাহিন্দ্রা-আলফা গাড়ি যোগে  নুসাইবা তার মা ফাহিমা আক্তার ও নানীর সঙ্গে যাচ্ছিল।
গাড়িটি এক পর্যায়ে বেপরোয়া গতিতে চালাতে থাকে চালক।সামনে থেকে লোকাল বাস এসে পরায় মাহিন্দ্রা-আলফা গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রন করতে পারেনি চালক।এক পর্যায়ে সড়কের পাশে উল্টে যায় গাড়ি। এতে শিশু নুসাইবা মাথায় প্রচন্ড আঘাতপায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার করে  বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বেপরোয়া গতি শিশুটির প্রান কেড়ে নিয়েছে।  নুসাইবার এ মৃত্যু যেন ফুল ফোঁটার আগে অঁঙ্কুরে ঝড়ে পড়ার মত।
নিহত নুসাইবা উজিরপুরের মশাং গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মোল্লার মেয়ে এবং কোরিয়া প্রবাসী বানারীপাড়ার সৈয়দকাঠির মোহাম্মদ আল আমিন মৃধার ভাগ্নি । নুসাইবার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বরিশালের এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট যানবাহনটি পুলিশ আটক করেছে।
স্থানীয়রা জানান, রহমতপুর এলাকা দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য অটোরিকশা ও সিএনজি দ্রুত গতিতে চলাচল করে। ফলে সড়কে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। তারা প্রশাসনের কাছে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে ফুলের মত ফুটফুটে নিষ্পাপ ছোট্ট নুসাইবার মৃত্যুতে  উজিরপুরের মশাং দাদা বাড়ি ও বানারীপাড়ার সৈয়দকাঠি নানা বাড়ি এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিবারে বইছে শোকের মাতম।
পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর একটাই আক্ষেপ — “চালকের মাঝে যদি একটু সতর্কতা থাকত, তাহলে হয়তো আজও নুসাইবা মায়ের কোল আলোকিত করে সুন্দর এ ধরণীতে বেঁচে থাকত। অথচ সে সবাইকে কাঁদিয়ে

চিরঘুমে ঘুমিয়ে আছে নিকষকালো অন্ধকার মাটির কবরে।

You cannot copy content of this page