
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী দ্বীন ইসলাম হৃদয়কে একই হলের ছাত্রদল কর্মীর বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় র্যাগিং, হুমকি এবং হল প্রশাসনের নীরব ভূমিকার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হলেন ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের ২০২২-২৩ বর্ষের শিক্ষার্থী। গত শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এ বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন ছাত্রদল কর্মী মোহাম্মদ তাওহীদুল ইসলাম, জিসান ও আকরাম ।
বিক্ষোভ মিছিলে ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাহীম বলেন, দ্বীন ইসলাম একজন নম্র-ভদ্র ছেলে। তার সঙ্গে এরকম আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। সে মানসিক ট্রমায় পড়ে স্ট্রোক করার ভয় পাচ্ছে। দ্বীন ইসলামের সঙ্গে হওয়া এ নিন্দনীয় ঘটনার দ্রুত বিচার চাই।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর রাতে ভুক্তভোগী দ্বীন মোহাম্মদ হৃদয় টিউশন শেষে রুমে গিয়ে উঠলে রুমের দুই শিক্ষার্থী রোমান ও ইউনুস তাকে আক্রমণাত্মক কথা বলতে থাকেন। তারা বলেন, হলে থাকার কিছু রুলস আছে। চাইলেই কেউ হলে উঠতে পারে না, হলে থাকতে হলে কষ্ট করতে হয়।
তিনি প্রতিবাদ করলে রোমান উচ্চস্বরে বলেন, এই আস্তে কথা বলুন, আপনি এখনো হলে থাকেন না। আর ইউনুস আঙুল তুলে বলেন, প্রশাসন মুখ্য নয়, প্রশাসন চাইলেই কাউকে শিফট করতে পারে না। সে ঘটনার পর হল প্রশাসন বিষয়টি সমাধান করতে অভিযুক্তদের সিট বাতিল করে শাস্তি দিলেও পরবর্তী সময়ে তিনি সেই শাস্তি প্রত্যাহার করেন।
হলে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের হাতে র্যাগিং-সদৃশ দুর্ব্যবহার, হুমকি এবং অপমানের শিকার হয়ে ব্যক্তিগত নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিলেন এবং ফেসবুক পোস্টেও তা তুলে ধরেন।
ঐ পোস্ট দেওয়ার কারণে গত শনিবার দুপুরে তাওহিদুল ইসলাম জিসান, ছাত্রদল কর্মী, মোহাম্মদ তাওহীদুল ইসলাম ও আকরাম তার রুমে গিয়ে তাকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করে একটি ভিডিও বার্তা ফেসবুকে পোস্ট করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
এতে তিনি মারাত্মক মানসিক চাপে পড়েন এবং বর্তমানে নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করছেন উল্লেখ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম জিসান বলেন, ওরা যে রুমে থাকে আমি ঠিক ওই রুমের ওপরের তলায় থাকি। ওই রুমে যারা থাকেন তাদের সাথে সবসময় কথাবার্তা বলি। আমি বড় ভাই হারিস ভাইয়ের কাছে গিয়েছি, সিনিয়র-জুনিয়র যেরকম কথাবার্তা হয় সেরকম কথা বলছিলাম। এখানে উচ্চগলায় কোনো কথা হয়নি। আমি কোনো রাজনীতি করিনা, কোনো দলেরও না।
তার সঙ্গে ওই রুমে অন্য কেউ ছিলেন কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমার সঙ্গে একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষার্থী, শিক্ষার্থী মোহাম্মদ তাওহীদুল ইসলাম ছিলেন। সে হয়ত ছাত্রদল করে, আমি এই বিষয়ে ক্লিয়ার না। ওর রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে, আমার রাজনৈতিক কোনো পরিচয় নেই।
আরেক অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী মোহাম্মদ তাওহীদুল ইসলামকে মোবাইলে কল দিলে তিনি ফোন বন্ধ করে রাখেন।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, যদি ছাত্রদলের কেউ এরকম কিছু করে থাকে এবং তা প্রমাণিত হয় তাহলে দলীয় শৃঙ্খলা অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :