
পরীক্ষার মাত্র ১৫ দিন আগে বাবাকে হারায় অষ্টগ্রামের অহনা দাস। তবুও থেমে থাকেনি সে। বাবার স্বপ্ন আর নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে শক্তিতে রূপ দিয়ে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের গৌরব গড়ে তুলেছে অহনা দাস। গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সে অর্জন করেছে জিপিএ-৫।
অহনা দাসের বাবা পরীক্ষার পনের দিন আগে মারা যান। বাবার মৃত্যুর শোকেও সে হার মানেনি। বাবার স্বপ্ন ছিল, মেয়ে যেন ভালো ফলাফল করে পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করে। সেই স্বপ্ন পূরণেই মনোবল ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে অহনা লড়ে গেছে নিজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের বিরুদ্ধে।
এর আগেও অহনা দাস অসাধারণ ফলাফল করেছে। অষ্টগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায়ও সে জিপিএ-৫ অর্জন করেছিল। ধারাবাহিক এই সাফল্যে শিক্ষকরা বলেন, “অহনা সব সময় পরিশ্রমী ও মনোযোগী ছাত্রী ছিল। তার সাফল্য আমাদের জন্য গর্বের।”
অহনার এমন অর্জনে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। বাবাহারা মেয়ের এই সাফল্যে মায়ের চোখে অশ্রু, তবে তাতে আছে গর্ব আর আনন্দের মিশেল।
অহনা দাস জানায়, “বাবার স্বপ্নই ছিল আমার অনুপ্রেরণা। আমি চাই ভবিষ্যতে এমন কিছু করতে, যাতে বাবা গর্ববোধ করতেন।”
অষ্টগ্রামের অহনা দাসের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন প্রমাণ করে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে কোনো স্বপ্নই অসম্ভব নয়।
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :