শার্শায় ভ্যানচালক হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-অবরোধঃ প্রশাসনের ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ শ্রমজীবী মানুষ


স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৬, ২০২৫, ১২:৫২ অপরাহ্ন /
শার্শায় ভ্যানচালক হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-অবরোধঃ প্রশাসনের ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ শ্রমজীবী মানুষ

যশোরের শার্শায় পরপর দুই ভ্যানচালক হত্যার ঘটনায় সীমান্তজুড়ে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো উপজেলা। বিক্ষুব্ধ ভ্যান ও রিকশাচালকরা মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করে প্রশাসনের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করেন।
দুপুর ১২টার দিকে শার্শা উপজেলা পরিষদের সামনে এবং নাভারণ সাতক্ষীরা মোড়ে শত শত শ্রমজীবী মানুষ জড়ো হয়ে মানববন্ধন করেন। পরে তারা যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক অবরোধ করে প্রায় আধাঘণ্টা অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, বেনাপোল স্থলবন্দরমুখী পণ্যবাহী ট্রাক ও পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
অবরোধ চলাকালে চালকরা হাতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার ধরে শ্লোগান দেন, হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই, ভ্যানচালক হত্যার বিচার চাই, প্রশাসন জাগো—জনগণের নিরাপত্তা দাও।
বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসন শুধু তদন্তের কথা বলছে, কিন্তু গ্রেপ্তার হচ্ছে না কেউ। আমরা প্রতিদিন জীবন বাজি রেখে রাস্তায় বের হই। আজ একের পর এক ভ্যানচালক খুন হচ্ছে, প্রশাসন নিশ্চুপ। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার না হয়, তাহলে তারা আগামী সপ্তাহে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি দেবেন।
স্থানীয় ভ্যানচালক ইউনিয়নের নেতা আব্দুল কাদের বলেন, যশোর-বেনাপোল সড়ক এখন খুনিদের রাজ্যে পরিণত হয়েছে। টহল নেই, নিরাপত্তা নেই। প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই আজ আমাদের ভাইদের লাশ উদ্ধার হচ্ছে।
এর আগে, গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ঝিকরগাছা উপজেলার বায়সা এলাকায় নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে নিখোঁজ ভ্যানচালক মাসুদ রানার (২১) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিন দিন পর মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকালে শার্শার কাজিরবেড় গ্রামে পরিত্যক্ত বাড়ির স্টিলের বাক্স থেকে উদ্ধার হয় আরেক ভ্যানচালক আব্দুল্লাহর (২৫) অর্ধগলিত মরদেহ।
টানা দুই হত্যাকাণ্ডে সীমান্তাঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, জীবিকার তাগিদে রাতদিন রাস্তায় থাকা এসব দরিদ্র মানুষের জীবন এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, দুটি হত্যার ঘটনায় পৃথক মামলা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে এবং দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে তার বক্তব্যে আশ্বস্ত নয় এলাকাবাসী। তারা বলছেন, প্রতি ঘটনার পরই একই কথা শোনা যায়, কিন্তু বিচার হয় না কোনো কিছুরই।

 

You cannot copy content of this page