দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগে জেল খাটার পরেও বহাল তবিয়তে শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম


মোঃ শাহজালাল, বরগুনা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৩, ২০২৫, ৪:২৭ অপরাহ্ন /
দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগে জেল খাটার পরেও বহাল তবিয়তে শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম

বরগুনার আমতলীতে জাল-জালিয়াতীর মামলায় জেল খাটার পরেও বহালতবিয়তে আমতলী মফিজ উদ্দিন বালিকা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম ।

এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর মো. জাহাঙ্গীর আলম এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। বিজ্ঞ আদালতে হাজিরা দিলে বিজ্ঞ আদালত সহকারী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম এর জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তিনি আমতলী মফিজ উদ্দিন বালিকা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইসলাম ধর্ম) হিসেবে কর্মরত। তিনি গ্রেফতার হয়ে বেশ কিছু দিন কারাগারে ছিলেন। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা যায়, ফৌজদারি অপরাধে কোনো সরকারি কর্মকর্তা গ্রেফতার হলে আইন অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার কথা। কিন্তু এ শিক্ষক কারাগারে গেলেও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। ওই শিক্ষক কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে এখন বাদিকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

গ্রেফতারের কাগজপত্র হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমতলী মফিজ উদ্দিন বালিকা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের রহস্যজনক দীর্ঘসূত্রতার আশ্রয় নিয়ে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছেন।

এ বিষয়ে আমতলী মফিজ উদ্দিন বালিকা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মো. জাহাঙ্গীর আলম “মফিজ উদ্দিন বালিকা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইসলাম ধর্ম)। অত্র বিদ্যালয়ের ১ মে ২০০৬ তারিখের নিয়োগ সম্পূর্ন জাল-জালিয়াতি, অবৈধ এবং নিয়োগ বিধি পরিপন্থি, মহাপরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা ড. আয়শা খাতুন কর্তৃক ২৯ আগষ্ট ২০০০ তারিখে স্বাক্ষরিত স্মারক নং ২৬১৫৪/(৩০০০০) জি এ ৩১ আগষ্ট ২০০০ ইং তারিখে জারিকৃত পরিপত্র/প্রজ্ঞাপনের ০৯নং দফায় উল্লেখ করেন এস এস সি থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত কোন তৃতীয় বিভাগ/ শ্রেনীধারীকে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেয়া যাবে না এবং তিনি এম পি ও প্রাপ্তির জন্য বিবেচ্য হবে না, সংশ্লীষ্ট শিক্ষক স্নাতক পর্যায়ের পাস কোর্সের ডিগ্রিধারী হলে তার মাস্টার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেনী থাকতে হবে, দ্বিতীয় শ্রেনীতে অনার্স ডিগ্রি থাকলে মাস্টার্স এ দ্বিতীয় শ্রেনী থাকতে পারে তবে পূর্বে পি ও ভুক্ত ইনডেক্স নম্বরধারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য নয়, পরবর্তিতে ২ এপ্রিল ২০০৩ তারিখের স্মারক নং শাঃ ১১/৬(২) ২০০২/৩৪৭(১৩) প্রজ্ঞাপন মোতাবেক সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন বেসরকারী শিক্ষক হিসাবে নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষা জীবনে যে কোন একটি পরীক্ষায় একটি তৃতীয় শ্রেনী/ বিভাগ প্রাপ্ত ব্যাক্তিগন শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ যোগ্য বিবেচিত হইবে এবং তারা এম পি ও প্রাপ্ত হইবেন।

আসামী মো. জাহাঙ্গীর আলম ১৯৮২ সালে দাখিল পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ, ১৯৮৪ সালে আলীম পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ, ১৯৮৬ সালে ফাজিল পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগ পেয়ে পাস করে। আসামী ১ মে ২০০৬ তারিখে অত্র বিদ্যালয়ে নিয়োগের পূর্বে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইনডেক্স নম্বরধারী শিক্ষক ছিল না এবং তার দাখিল ও আলীম পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ থাকার কারনে ৩১ আগষ্ট ২০০০ তারিখের প্রজ্ঞাপন জারীর পর হইতে বর্তমান পর্যন্ত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ লাভের যোগ্য নয়।

আসামী ১৫ আগষ্ট ১৯৯৩ তারিখ হতে ৩০ এপ্রিল ২০০৬ তারিখ পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলার দুমকি খানায় পাঙ্গাশিয়া আলিয়া মাদ্রাসায় করনিক পদে চাকুরী করিয়াছেন। সহকারী শিক্ষক এবং করনিক পদের কোড নম্বর এবং স্কেল এক নয়, করনিক তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী এবং সহকারী শিক্ষক দ্বিতীয় শ্রেনীর কর্মকর্তা, যার পদমর্যাদা এক নয়। একই প্যাটার্ন যুক্ত নয়, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে করনিক, শিক্ষক শ্রেনীর ভোটার হতে পারে না। তাই করনিক পদের ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে আসামী সহকারী শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ লাভ করতে পারে না।

আসামী গত ৩১ আগষ্ট ২০০০ তারিখ ও ২ এপ্রিল ২০০৩ তারিখের প্রজ্ঞাপন দুইটির মর্মানুসারে তার দুইটি তৃতীয় বিভাগ থাকার কারনে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ নিতে পারে না বুঝতে পেরে সু-কৌশলে পাঙ্গাশিয়া মাদ্রাসার এম পি ও ফটোকপিতে জাল-জালিয়াতি করিয়া করনিক পদ CT (Clark Cum Typist) কে সহকারী শিক্ষন MRT (Muslim Religious Teacher) বানিয়ে করনিকের ইনডেক্স নম্বরকে সহকারী শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর দেখিয়ে প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পূর্বে ইনডেক্স নম্বরধারী শিক্ষক সাজাইয়া অত্র প্রতিষ্ঠানের তৎকালিন সভাপতিকে অবৈধভাবে লাভবান করিয়া গত ১ মে ২০০৬ তারিখ মফিজ উদ্দিন বালিকা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অবৈধ ভাবে নিয়োগ লাভ করে অদ্য পর্যন্ত বলবৎ আছেন।

আসামী অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক হিসাবে চাকরী না করে দুমকি থানাধীন পাঙ্গাশিয়া আলিম মাদ্রাসায় করনিক পদে চাকুরী করে অত্র বিদ্যালায়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ লাভের জন্য জাল-জালিয়াতি মূলক ভাবে তার উক্ত করনিক পদ CT (Clark Cum Typist) কে সহকারী শিক্ষক MRT (Muslim Religious Teacher) বানিয়ে জাল জানিয়া গত ১ মে ২০০৬ তারিখ বরগুনা জেলার আমতলী থানাধীন আমতলী পৌরসভাস্থ ০৬নং ওয়ার্ড এর মফিজ উদ্দিন বালিকা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ব্যবহার করে সহকারী শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পাইয়া জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে করনিক পদের অভিজ্ঞতাকে সহকারী শিক্ষকের অভিজ্ঞতা দেখাইয়া উচ্চতর বেতন স্কেলে বেতন ভাতা উত্তোলন করে প্রায় ৩০,৩,৩০০/-(ত্রিশ লক্ষ তিন হজার তিনশত) টাকা সরকারী অর্থ অবৈধ ভাবে ভোগ করে আত্মসাৎ করে।

এ ব্যাপারে বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, খুব শীঘ্রই অভিযুক্ত শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য স্কুল শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম এর বিরুদ্ধে আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে ১২ নভেম্বর ২০২০ সালে মোকাম বরগুনা বিজ্ঞ সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।

You cannot copy content of this page