রাঙামাটিতে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটসহ ৫ দফা দাবিতে ইসলামী আন্দোলনের প্রদান স্মারকলিপি


মো: সোহেল রানা, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১২, ২০২৫, ১১:০১ পূর্বাহ্ন /
রাঙামাটিতে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটসহ ৫ দফা দাবিতে ইসলামী আন্দোলনের প্রদান স্মারকলিপি

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন, গণভোট আয়োজন এবং স্বৈরাচারের দোসর রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধসহ ৫ দফা দাবি জানিয়ে রাঙামাটিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

শনিবার (১১ অক্টোবর) সকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাঙামাটি জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমীন এর নিকট স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ জসিম উদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি এনামুল হক মৃধা, সহ-সভাপতি এ.কে.এম ইসরাইল, সেক্রেটারি ওমর ফারুক, যুগ্ম সেক্রেটারি মুফতি আব্দুল মান্নান, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমাম হুসাইন, দপ্তর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ও সহ-দপ্তর সম্পাদক দিদারুল আলম প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে বলা হয়,
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সফল গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ও জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। সরকার জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র ও জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করলেও এখনো সেটিকে আইনগত ভিত্তি দেওয়া হয়নি। এতে অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে, জুলাই জাতীয় সনদের আইনগত ভিত্তি প্রদান ব্যতীত ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত অভ্যুত্থানের চেতনা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। তাই অবিলম্বে সংবিধান আদেশ জারি করে সনদ বাস্তবায়ন ও নির্বাচনের পূর্বে গণভোটের আয়োজন করার আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে কালো টাকা, পেশিশক্তি, ভোটকেন্দ্র দখল ও জাল ভোটের মতো অপতৎপরতা রোধে পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে, যাতে প্রতিটি ভোটের সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব হয় এবং যোগ্য প্রার্থীরা সংসদে প্রবেশ করতে পারেন।
স্মারকলিপিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৫ দফা দাবিসমূহ হলো—
১. আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও উক্ত আদেশের উপর গণভোট আয়োজন।
২. জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা।
৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
৪. ফ্যাসিস্ট সরকারের সকল জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।
৫. স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা।
ইসলামী আন্দোলন নেতারা বলেন, এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন হলে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন একটি গ্রহণযোগ্য পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

You cannot copy content of this page