শতবর্ষী আনন্দ মোহন সরকারি কলেজ শিক্ষা ও ঐতিহ্যের আলোকবর্তিকা


মিয়া সুলেমান, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১০, ২০২৫, ৬:২৮ অপরাহ্ন /
শতবর্ষী আনন্দ মোহন সরকারি কলেজ শিক্ষা ও ঐতিহ্যের আলোকবর্তিকা

ময়মনসিংহ শহরের হৃদয়ে কলেজ রোডের পাশে ১২.২৫ একর জায়গাজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান- আনন্দ মোহন সরকারি কলেজ। ১৯০৮ সালে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারক আনন্দমোহন বসু প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এই বিদ্যাপীঠ, যা আজ “ময়মনসিংহের অক্সফোর্ড” নামে পরিচিত।

এই কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৮৮০ সালে, ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট স্কুল হিসেবে। পরবর্তীতে ১৯০৮ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ কলেজে রূপ নেয় এবং নামকরণ হয় আনন্দ মোহন কলেজ। ১৯৬৪ সালে সরকারিকরণ হওয়ার পর থেকে কলেজটি ক্রমেই দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে প্রায় ৩২ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও ২০০ জনের অধিক বিসিএস শিক্ষক নিয়ে কলেজটি উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

প্রতিষ্ঠানটির মনোমুগ্ধকর রাজবাড়ি সাদৃশ্য স্থাপত্য, সবুজ ক্যাম্পাস এবং ঐতিহ্যবাহী ভবনগুলো যেন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিটি বিভাগের প্রতিটি কোণে প্রতিফলিত হয় হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা।

আবাসনের ব্যবস্থাও সমৃদ্ধ—ছাত্রদের জন্য যেমন রয়েছে আবাসিক হল তেমনি ছাত্রীদের জন্য আছে। কলেজে রয়েছে আধুনিক ইন্টারনেট ক্যাফে, প্রতিটি বিভাগে ব্রডব্যান্ড সংযোগ, এবং সমৃদ্ধ কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি।

ক্যাম্পাসের উন্মুক্ত খেলার মাঠ ও মুক্তমঞ্চ শিক্ষার্থীদের বিনোদন ও খেলাধুলার অন্যতম স্থান। প্রবেশমুখে লেখা রয়েছে অনুপ্রেরণামূলক বাণী— “জ্ঞানের জন্য এসো, সেবার জন্য বেরিয়ে যাও।”

এছাড়াও কলেজে রয়েছে স্কাউট, বিএনসিসি, বাঁধনসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও রক্তদাতা সংগঠন, যা শিক্ষার্থীদের সমাজসেবার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে।

প্রতিবছর এখানকার শিক্ষার্থীরা বিসিএসসহ নানা জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় সফলতা অর্জন করে কলেজের সুনাম বৃদ্ধি করছে। শতবর্ষের গৌরবময় পথচলায় এই কলেজ গড়ে তুলেছে অসংখ্য সফল নাগরিক, যাঁরা আজ দেশ-বিদেশে কৃতিত্বের সঙ্গে কাজ করছেন।

তবে সময়ের দাবিতে উঠে এসেছে কিছু যৌক্তিক প্রস্তাব—কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, আলাদা প্রশাসনিক ভবন, শিক্ষক স্বল্পতা নিরসন, নতুন বিভাগ চালু, বহুতল আবাসন ও পরিবহন সমস্যা সমাধান—যা বাস্তবায়িত হলে আনন্দ মোহন কলেজ আরও শক্তিশালী শিক্ষাঙ্গনে পরিণত হবে বলে শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা আশাবাদী।

কিন্তু ময়মনসিংহ অঞ্চলের সচেতন নাগরিকবৃন্দ মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার চেয়ে মহাবিদ্যালয় পর্যায়ে থাকাই ভালো কারণ আসন সংখ্যা কম যাবে। ফলে, এই অঞ্চলের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হবে।

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে শতবর্ষ পেরিয়ে আজও আনন্দ মোহন কলেজ ময়মনসিংহবাসীর গর্ব এবং প্রেরণার প্রতীক।

You cannot copy content of this page