পিরোজপুর রেজিস্ট্রি অফিসে দুদকের অভিযানের পরও থেমে নেই ঘুষের কারবার:মুল হোতা অসিম চন্দ্র শীল সাংবাদিক কে বললেন যা লিখবেন লেখেন দুদক আর ডিআর স্যার আমার ম্যানেজ করা


অনুসন্ধানী প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৭, ২০২৫, ৫:৪৬ অপরাহ্ন /
পিরোজপুর রেজিস্ট্রি অফিসে দুদকের অভিযানের পরও থেমে নেই ঘুষের কারবার:মুল হোতা অসিম চন্দ্র শীল সাংবাদিক কে বললেন যা লিখবেন লেখেন দুদক আর ডিআর স্যার আমার ম্যানেজ করা

দুদকের অভিযানের পরও পিরোজপুর জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষের কারবার বন্ধ হয়নি—বরং আরও সুসংগঠিত হয়েছে। হাতে-নাতে ধরা পড়া দুই নকলনবিশের পেছনের আসল নিয়ন্ত্রক হিসেবে উঠে এসেছে জেলা রেজিস্ট্রার সহকারী অসিম চন্দ্র শীল-এর নাম।
দুদকের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘুষের ৬৭ হাজার টাকা দ্রুত হাতবদল করে বেঁচে যান এই অসাধারণ কৌশলী কর্মকর্তা। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবার শুরু হয় পুরনো ছন্দে ঘুষের রাজত্ব—এইবার বড়বাবু প্রশান্ত কুমারকে সঙ্গে নিয়ে।

অভিযান, নাটকীয় পালাবদল, আর ‘ম্যানেজ’ করা তদন্ত

গত ২১ আগস্ট, সংবাদ প্রতিদিন-এ প্রকাশিত অনুসন্ধানী রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক পিরোজপুর জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে অভিযান চালায় ২৯ আগস্ট । অফিসে হঠাৎ দুদকের উপস্থিতিতে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। ঠিক তখনই ধূর্ত কৌশলে অসিম চন্দ্র শীল নিজের হাতে থাকা ঘুষের টাকা নকলনবিশদের হাতে তুলে দেন, যাতে দায় তাদের ওপর পড়ে।

অভিযানে দুদক কর্মকর্তারা ঘুষের ৬৭ হাজার টাকা উদ্ধার করেন এবং দুই নকলনবিশকে আটক করেন। তবে সূত্র বলছে, অভিযানের আগে থেকেই অসিম শীল ওই অর্থ বিভিন্ন দলিল সংক্রান্ত কাজে নিয়মিতভাবে আদায় করতেন। দুদকের উপস্থিতি টের পেয়েই ঘটনার দিক ঘুরিয়ে দেন তিনি।

অভিযানের পরও ঘুষ বাণিজ্য আগের মতোই

দুদক অভিযানের পর অফিসে সাময়িক শঙ্কা দেখা দিলেও দুই দিন যেতে না যেতেই পরিস্থিতি ফিরে যায় আগের রূপে। এবার অসিম চন্দ্র শীলের সঙ্গে যোগ দেন বড়বাবু প্রশান্ত কুমার। দুজনে মিলে ফাইল নড়াচড়া, রেজিস্ট্রেশন অনুমোদন, দলিল যাচাই—সব কিছুতেই নতুন করে ঘুষের হার নির্ধারণ করেন।

অফিসের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

“ওরা এখন খোলাখুলিই বলে—‘দুদককে ম্যানেজ করে ফেলা হয়েছে।’ তাই কেউ মুখ খোলে না।”

ডিআরের আশ্রয়ে দুর্নীতি, প্রভাবশালী নামের আড়াল

অসিম চন্দ্র শীলের পেছনে যে শক্ত আশ্রয় রয়েছে, তা স্থানীয় প্রশাসনের অনেকেই জানেন। অভিযোগ আছে, জেলা রেজিস্ট্রার শেখ মছিউল নিজেকে ডিসি আশরাফুল আলম খানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু পরিচয়ে রীতিমতো ক্ষমতার ছায়া তৈরি করেছেন।
এই সম্পর্কের জোরেই তিনি অসিম শীলের সব কর্মকাণ্ডে নীরব ভূমিকা রাখছেন বলে দাবি করছে অফিসের ভেতরের সূত্রগুলো।

বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ

অসিম চন্দ্র শীলের বিরুদ্ধে শুধু ঘুষ নয়, ভারতে অবৈধ অর্থ পাচারের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় কিছু সূত্র জানিয়েছে, তিনি সীমান্তপথে নিয়মিত টাকা পাচার করেন এবং পশ্চিমবঙ্গে আত্মীয়দের নামে সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

দুদকের তদন্ত স্থবির, স্থানীয়দের ক্ষোভ

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অসিম চন্দ্র শীলের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনও যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে তদন্ত কার্যক্রম ধীরগতিতে চলছে।

পিরোজপুরের নাগরিক সমাজ প্রশ্ন তুলছে—

“যে অফিসে দুদকের অভিযান হয়, হাতেনাতে ঘুষ ধরা পড়ে, অথচ কয়েক দিনের মধ্যে আবার সেই ঘুষ বাণিজ্য শুরু হয়—তাহলে দুর্নীতির শিকড় কত গভীরে গিয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।”

তারা দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত, অসিম চন্দ্র শীলসহ সংশ্লিষ্টদের স্থায়ী বহিষ্কার এবং সম্পদের উৎস যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।


দুদকের অভিযান হয়তো মুহূর্তিক চমক সৃষ্টি করে, কিন্তু যখন স্থানীয় প্রশাসন, রেজিস্ট্রি অফিস ও রাজনৈতিক প্রভাব একে অপরের সঙ্গে মিলে যায়—তখন দুর্নীতি হয়ে ওঠে প্রতিষ্ঠানগত রোগ। পিরোজপুর জেলা রেজিস্ট্রি অফিস তারই এক নির্মম উদাহরণ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদকে অসিম কুমার শীল জানান, যা করেছি ভালে করেছি আপনারা লেখেন লিখে আমার চুলডাও ছিড়তে পারবেন না। আমার ডিআর স্যারের বন্ধু পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আশরাফুল আলম খান।তাছাড়া আমরা যায় করি ডিআর মছিউল আলম স্যারের নির্দেশেই করি৷আমরা সবাই কে ম্যানেজ করে কাজ করি৷

বড়বাবু প্রশান্ত কুমার অধিকারীও অনেকটা একই সুরে কথা বললেন যে ডিআর স্যারের নির্দেশে আমরা সবকিছু করি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাননীয় ডিআর মহোদয় কে বেশ কয়েকবার কল দেওয়ার পর ও তিনি রিসিভ করেননি।

খুব শীঘ্রই মাননীয় আইন উপদেষ্টা ও আইজিআর মহোদয়ের কাছে আমাদের প্রতিনিধি টিম যাবে এই সমস্ত দূর্নীতিবাজ অফিসারদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরন করার পিছনে শক্তি করা।

অনাথ্যায় জনস্বার্থে এদের কে বদলী করা হোক।

You cannot copy content of this page