
নাটোরের বনপাড়ায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও একজন। সোমবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে বনপাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গুনাইহাটি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বনপাড়া বাজার থেকে মানিকপুরগামী একটি ব্যাটারি চালিত অটোভ্যান (থ্রি হুইলার) চারজন যাত্রী নিয়ে রওনা দেয়। প্রায় দুই কিলোমিটার যাওয়ার পর গুনাইহাটি ব্রিজের কাছে সড়ক ক্রস করার সময় রাজশাহী থেকে পাবনাগামী ‘একতা পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস পিছন দিক থেকে অটোভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কার তীব্রতায় অটোভ্যানটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়, আহত হন দুজন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বনপাড়া পাটোয়ারী মেডিকেল হসপিটালে নিয়ে গেলে থ্রি হুইলারের চালক নুরুদ্দিন (ধলা গ্রামের বাসিন্দা) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অটোভ্যানে থাকা চারজন যাত্রী নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার কালিকাপুর গ্রামের একই পরিবারের সদস্য। নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। আহত ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল এবং অসাবধানতাবশত পিছন দিক থেকে অটোভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।”
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “অটোভ্যানটি ধীরে রাস্তা পার হচ্ছিল। হঠাৎ দ্রুতগতিতে একতা পরিবহনের বাসটি এসে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। মুহূর্তের মধ্যে মানুষগুলো ছিটকে পড়ে যায়। পুরো ঘটনাস্থল রক্তে ভরে যায়—দৃশ্যটি ছিল ভয়াবহ।”
দুর্ঘটনার পরের পরিস্থিতি
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের বাড়িতে আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে বাস চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পরে বনপাড়া হাইওয়ে থানার পুলিশ বাস ও অটোভ্যান জব্দ করে এবং কিছু সময় পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
নাটোর–রাজশাহী মহাসড়কটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়কগুলোর একটি। প্রতিনিয়ত এই সড়কে অতিরিক্ত গতি ও অসচেতন চালনার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কে নিয়মিত গতি নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি না থাকায় এমন দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। এবারের দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :