

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের চাকুরি রক্ষায় মাঠে নেমেছে আওয়ামী দোসর পবিপ্রবির সাবেক ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের সংগঠন পিএসটিইউ এলামনাই এসোসিয়েশন এর সহ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল বাক্কী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলে শামসুল হুদা রিফাত নামের একজন চাকুরি প্রত্যাশীর দায়েরকৃত রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে পবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের ছেলে শাওন চন্দ্র সামন্ত তনু সহ ৬ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন।
এই মর্মে বিগত ১৮ মার্চ দৈনিক কালের কন্ঠসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে পবিপ্রবিতে সাবেক উপাচার্যের ছেলেসহ ৬ কর্মকর্তা চাকুরিচ্যুত শিলরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের চাকুরি রক্ষার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে আওয়ামীলীগের সুবিধাভূগী দোসর ছাত্রদল নামধারী আব্দুল্লাহ আল বাক্কীর বিরুদ্ধে।
গত বছরের ৭ আগস্ট আবদুল্লাহ আল বাক্কীর ঘনিষ্ট সহযোগী শাহিন আল মামুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পবিপ্রবিয়ান পেইজে পবিপ্রবিতে কর্মরত আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের চাকুরি রক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আকুতি জানিয়ে মর্মে পোস্ট দিয়েছেন বলে সত্যতা পাওয়া যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্রে জানা যায়, পবিপ্রবির বর্তমান প্রশাসন ২০০৯ সাল থেকে ৫ আগষ্ট, ২০২৪ পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট আমলের সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্তে একটি কমিশন গঠন করায় দুর্নীতিবাজরা চাকুরি হারানোর আতংকে ভুগছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তথাকথিত ছাত্রদল নামধারী আবদুল্লাহ আল বাক্কী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামিমের নাম ব্যবহার করে চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের চাকুরি রক্ষার আশ্বাস দিচ্ছেন এবং বরখাস্তকৃতদের চাকুরি পুনর্বহালের কথা বলে অনেকের কাছ থেকে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন মর্মে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ছাত্র জীবন থেকেই আব্দুল্লাহ আল বাক্কী অত্যন্ত ধুরন্ধর প্রকৃতির। বাক্কী পবিপ্রবি ক্যাম্পাসের যুগান্তর পত্রিকার রিপোর্টারের কার্ডের আড়ালে ব্যাপক চাঁদাবাজি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ছাত্রত্ব শেষে ঢাকার মিরপুরে ম্যাচে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে মিরপুর থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, চতুর আবদুল্লাহ আল বাক্কী ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে খোলস পরিবর্তন করে ছাত্রদলের ত্যাগী সেজেছে। কিন্তু অনুসন্ধানে জানাযায়, তথাকথিত সাবেক ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল বাক্কী পবিপ্রবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত ২০১৭ সালে ২৬ মে কৃষিবিদ ইনষ্টিটিউশনে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম এবং সাবেক দুর্নীতিবাজ ভিসি হারুন অর রশিদ এর উপস্থিতিতে ঘোষিত পিএসটিইউ এলামনাই এসোসিয়েশন এর সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন।
আবদুল্লাহ আল বাক্কীর স্ত্রী এশা মনি আওয়ামীলীগ নেতা আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিমের খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার স্ত্রীকে মঞ্চে বাহাউদ্দিন নাছিমের ডান পাশে এবং তাকে উক্ত সভার ফাঁকে সাবেক দুর্নীতি পরায়ন ভিসি ড. মো: হারুন অর রশিদ, সাবেক পবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মিলন মিয়া, ছাত্রলীগের নেতা সাইদুর রহমান জুয়েল ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আতাউর রহমানের সাথে ফটোসেশনে দেখা যায়। শুধু তাই নয়, ছাত্রলীগের এলামনাইতে পদপ্রাপ্তিতে বাক্কীর স্ত্রী এশা (মিষ্টি এশা) বাক্কীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনন্দনও জানিয়েছিলো।
এছাড়াও আবদুল্লাহ আল বাক্কী পবিপ্রবির দুর্নীতিবাজ প্রাক্তন ভিসি ড. মো: হারুন অর রশীদের বড় ছেলে তানভীর রশীদের বন্ধু ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রায়হান আহমেদ রিমনের ঘনিষ্ঠজন হওয়ার সুবাধে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলে তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বানিজ্যের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :