
রংপুরের সিনিয়র সাংবাদিক লিয়াকুত আলী বাদলকে অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি এনায়েত আলী রকি মিয়াকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) রাতে ঢাকার রায়সাহেব বাজার এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রকিকে গ্রেফতার করে র্যাব-১০। পরে তাকে রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় রকিকে আদালতে হাজির করলে রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক দেওয়ান মনিরুজ্জামান তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে মামলার অন্য আসামি রতন মিয়া ও সাগরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রতন ইতিমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতেমা, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মৌসুমী আফ্রিদা, ট্রেড লাইসেন্স শাখার প্রধান মিজানুর রহমান মিজান, প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবির শান্ত ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা তন্ময় কুমার সরকারকে বদলি করা হয়েছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় সাংবাদিক বাদলের লেখা “রংপুরে জুলাই যোদ্ধার নামে অটোর লাইসেন্স, পাঁচ কোটি টাকার বাণিজ্যের পাঁয়তারা” শিরোনামের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর জেরে ২১ সেপ্টেম্বর রকির নেতৃত্বে ১৫-২০ জন যুবক কাচারি বাজার থেকে বাদলকে অপহরণ করে সিটি কর্পোরেশনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সামনে নিউজের জন্য ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয় এবং শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এসময় সাংবাদিকরা তাকে উদ্ধারে গেলে সিটি কর্পোরেশনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী সাংবাদিকদেরও হেনস্তা করে। পরে বাদল ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী বলেন, “সাংবাদিক বাদলের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনায় এক সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিকরা আগামী ৭ অক্টোবর সংহতি সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :