কেরানীগঞ্জ ইকুরিয়া বিআরটিএ অফিস ঘুষ দুর্নীতির অভয়ারণ্যে পরিণত: নেপথ্যের কারিগর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ হাসান


স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫, ২:৪০ অপরাহ্ন /
কেরানীগঞ্জ ইকুরিয়া বিআরটিএ অফিস ঘুষ দুর্নীতির অভয়ারণ্যে পরিণত: নেপথ্যের কারিগর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ হাসান

লাগামহীন স্বেচ্ছাচারিতায় কেরানীগঞ্জ ইকুরিয়া বিআরটিএ অফিস এখন ঘুষ দুর্নীতির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এখানে ঘুষ ছাড়া মেলেনা সেবা, নড়েনা ফাইল। নির্ধারিত সরকারি ফিস ব্যাংকে জমা দিয়ে কোনো গ্রাহক যদি মনে করেন নিয়মতান্ত্রিকভাবে স্বল্প দিনেই তিনি লার্নার, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রোড মারমিট, মালিকানা বদল বা রেজিষ্ট্রেশন করিয়ে নিবেন তাহলে তিনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন। এখানে মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ হাসানের দেড় শতাধিক দালালের মধ্যে যদি একটির সাথেও আপনার অলিখিত চুক্তি বা গোপন অর্থ লেনদেন না হয়ে থাকে তাহলে আপনাকে ঘুরতে হবে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর।

ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, রোড মারমিট, ফিটনেস, মালিকানা পরিবর্তনে নানা রকম ভুল-ত্রুটি বের করে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে মোহাম্মদ হাসান। মালিকানা পরিবর্তনে ট্রাক/বাসে ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা, সিএনজি ২ হাজার টাকা থেকে ৫হাজার টাকা এবং মাইক্রো প্রাইভেট কার থেকে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেন ইকুরিয়া’র মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ হাসান । আর গাড়ির নাম্বার প্লেটের জন্য ৪ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা, ড্রাইভিংয়ের লার্নার কার্ডের জন্য ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন ইন্সপেক্টর মোঃ হাসান।

সূত্র মতে, মোহাম্মদ হাসান দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ একই অফিসে কর্মরত থাকায় পুরো দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট তার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছেন তিনি। এখানে সহকারী পরিচালক ( ইঞ্জি:) সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতি কর্মদিবসে মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ হাসান ও তার দেড় শতাধিক দালালের মাধ্যমে দুনাম্বারী রাস্তায় উপার্জিত অবৈধ টাকার ভাগ প্রতি কর্মদিবসে সন্ধ্যায় ২৫% পেয়ে যান সহকারী পরিচালক ( ইঞ্জি:)।।  ফলে উপঢৌকন ও দুর্নীতির টাকার ভাগ তারাও বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করেন।।

সপ্তাহে ২ দিন ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা নেওয়া হয় ইকুরিয়া বিআরটিএ অফিসে। এই দুইদিন ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রত্যাশী ব্যক্তিদের কাগজ জমা পড়ে এবং পরীক্ষা অংশ নেন ৩ সহস্রাধিক ব্যক্তি। যাদের কাছ থেকে সকল খরচ বাদে মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ হাসানের পকেটে যদি ২ হাজার করে টাকাও ঢুকে, তাহলে মাসান্তে সেই ঘুষ দুর্নীতির পরিমাণ দাঁড়ায় আড়াই কোটি টাকা। বছরে ৩০ কোটি টাকা। আর ১০ বছরে………………….?????

রাজধানীর কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া বিআরটিএ অফিসে ঘুষ দুর্নীতির অন্যতম মাস্টারমাইন্ড মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ হাসান চাকরি শুরুর মাত্র কয়েক বছরেই গড়েছেন বিপুল টাকার সম্পদ। ঢাকার অভিজাত এলাকায় রয়েছে তার নিজস্ব ফ্ল্যাট, প্লট, চড়েন নিজস্ব দামি গাড়িতে। অথচ কয়েক বছর পূর্বেও তিনি টিউশনি করে কলেজ ইউনিভার্সিটির খরচ যোগাতেন। তাই শূণ্য থেকে শীর্ষে অবস্থান করা এই কর্মকর্তার বিলাসী জীবনের উত্থানে তার ক্লাসমেটসহ এলাকাবাসী ও আত্মীয়স্বজনও হতবাক – বিস্মিত।

অভিযোগ রয়েছে তার ঘুষ দুর্নীতির প্রধান সেনাপতি নৈশ প্রহরী শামীমের মাধ্যমে তিনি ৫/৬ কোটি হাতিয়ে নিলেও, দুদকের নজর পড়ে যাওয়ায় শামিমের বদলি ঠেকাতে মোহাম্মদ হাসান কোনোরকম তদবির করেননি। ফলে বদলিজনিত কারণে শামিম এখন অন্য অফিসে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য চালকদের ডোপ টেস্ট করাতে হয়। ডোপ টেস্টে পজিটিভ আসলে, অর্থাৎ মাদক সেবনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তিনি লাইসেন্স পাবেন না। নৈশ প্রহরী শামিম সেই নিয়মকে পুঁজি করে ভয়াবহ বাণিজ্যে মেতেছিলেন। তিনি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ভুয়া ডোপ টেস্ট রিপোর্ট তৈরি করে মাদকসেবীদের লাইসেন্স করিয়ে দিতেন মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ হাসানের মাধ্যমে। সেই নৈশ প্রহরী শামিমও এখন কয়েক কোটি টাকার মালিক। এলাকার মানুষ তাকে চেনে “” শামিম সাহেব “” হিসেবে।। তবে দুদক এনফোর্সমেন্ট টিমের নজরে চলে আসায় শামিমকে ইকুরিয়া বিআরটিএ ছাড়তে হয়েছে। তবে থলের বিড়াল বেড় হয়ে যাওয়ার ভয়ে তার ঘুষ দুর্নীতির প্রধান সেনাপতির শাস্তিমূলক বদলিতেও মোহাম্মদ হাসান তেমন কোনো উচ্চবাচ্য করেননি।

এ বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রশ্নে মোহাম্মদ হাসানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য কয়েকবার তার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করাই তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।।৷ ( চলবে)

You cannot copy content of this page