
চাকরির শেষ সময়ে এসেও বেপরোয়া দূর্নীতি আর অনিয়ম করে চলেছেন ৫বছর বয়সী ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা জলঢাকার দূর্নীতিবাজ সাব-রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লা।
মুজিবনগর সরকারের ভূয়া কর্মচারী পরিচয়ে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও ভুয়া গ্রাজুয়েশন সনদ দিয়ে ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি পাওয়া ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লা চাকরির শেষ সময়ে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা।
কথায় কথায় জমির শ্রেণী পরিবর্তন, ভলিউম বইয়ের পাতা ছিঁড়ে ফেলা, ওভার রাইটিং, পে অর্ডারের টাকা লোপাট ও খাস জমি ডেভলপার কোম্পানির কাছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রেজিষ্ট্রি করে দিয়ে ইতোমধ্যে হয়েছেন কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক। কালো টাকার বদৌলতে একজন রেজিষ্ট্রেশন বিভাগের সচিব কে ম্যানেজ করে মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী পরিচয়ে তার চাকরি মেয়াদ ১ বছর বর্ধিত করে নিয়েছেন। তা না হলে এই ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লা অবসরে চলে যেতেন ৩১শে ডিসেম্বর ২০২৪ সালে।
এর আগে উত্তরা সাব রেজিস্ট্রার অফিসে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে শেখ হাসিনার এই পেতাত্মা লুৎফর রহমান মোল্লা বিভিন্ন এমপি মন্ত্রী আর আওয়ামী লীগের নেতাদের নামে সরকারের খাস জমি ও বিভিন্ন পরিত্যক্ত, শত্রু সম্পত্তি অপকৌশলে রেজিষ্ট্রেশন করে দিয়ে হাতিয়ে নেন শত-শত কোটি টাকা। আর এভাবে অর্জিত কালো টাকার গরমে গোপন সিঁড়ি ব্যবহার করে উপ সচিব ( রেজিষ্ট্রেশন) মোঃ আজিজুল হককে মোটা অংকের নজরানা ও উপঢৌকনে বশিভূত করে চাকরির মেয়াদ ১ বছর বর্ধিত করে নিয়েছেন।
এরপর বদলি জনিত কারণে লুৎফর চলে যান নর্থ বেঙ্গলের নীলফামারী জেলার জলঢাকাতে। সেখানে যাওয়ার পর থেকেই তার চাকরির শেষ সময়ে সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করে দলিল প্রতি হাতিয়ে নিচ্ছেন ৩০ হাজার টাকা থেকে দুই তিন লাখ টাকা। অন্যথায় দলিলে বিভিন্ন সমস্যা আছে বলে ডায়ালগ দিয়ে দলিল নিবন্ধন বন্ধ রাখা হচ্ছে।
আর এসব ঘুষ দুর্নীতি আর জাল দলিল বাণিজ্যের প্রতিবাদে চলতি মাসের ৮ তারিখে নীলফামারী জলঢাকায় “দুর্নীতিবাজদের ঠাই নাই, বৈষম্যহীন বাংলাদেশে” এই স্লোগান নিয়ে সাব-রেজিষ্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লার সীমাহীন দুর্নীতি, সিন্ডিকেটের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৮ই সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুর ১২ টায় জিরো পয়েন্ট মোড়ে সচেতন নাগরিক সমাজ এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।
সচেতন নাগরিক সমাজের আহবায়ক আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্যে রাখেন, সানাউল্লাহ সানা, ইয়াস রুক্সি, লাবলু ইসলাম, ছোট নাহিদ, আইনুল হক, ওমর ফারুক, লাদেন হোসেন, ছোট বাবু, আলমগীর ইসলাম প্রমূখ।
বক্তরা সাব-রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লার নানা অনিয়ম তুলে ধরে ঘুষ বন্ধ করে তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ তদন্ত করে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।
সচেতন নাগরিক সমাজের আহবায়ক আনোয়ার হোসেন বলেন “এই লুৎফর রহমান মোল্লা প্রতিটি দলিল করতে ৯ হাজার টাকা থেকে দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেন। সঠিক কাগজপত্র থাকলেও ঘুষ ছাড়া ওই সাব- রেজিস্ট্রার কোনো দলিল করে না। তিনি ঘুষ খেতে খেতে ঢাকায় সম্পদের পাড়ার গড়ে তুলেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাব রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লা জালজালিয়াতি ও অবৈধ ভাবে ঘুষ বানিজ্য করে গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদের পাহাড়।
তার নিজ গ্রাম মাদারীপুর জেলায় রয়েছে মাছের ঘের, ইট ভাটা, মাইন্ডিং মিল, মার্কেট,হাসপাতাল ও ৮ শতাংশ জমির উপর ৬ তলা বাড়ি,মাদারীপুর শহরে দু’টি ৫ তলা বাড়ি, ঢাকা শান্তিনগরে রয়েছে দু’টি ফ্ল্যাট, ধানমন্ডি ফ্ল্যাট, বড় বড় হাউজিং কোম্পানিতে রয়েছে শেয়ার হোল্ডার হিসেব এবং চড়েবেড়ান বিলাসবহুল ৩টি গাড়িতে যার এক একটি গাড়ির দাম কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
তার বিরুদ্ধে দুদক ও আইন বিষয়ক মন্ত্রণালয় রয়েছে অভিযোগের পাহাড় সেই অভিযোগ পত্রে রয়েছে তার এই অবৈধ সম্পদের বিবরণ। এছাড়া হুন্ডির মাধ্যমে তিনি বিদেশে তার এই কালো টাকা পাচার করে থাকেন বলে জানিয়েছে একটি বিশ্বস্ত সূত্র।
সাব রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লা ক্ষমতার জোরে বড় বড় লোভনীয় ষ্টেশনে চাকুরী করেন বলে জানা যায়।
১৯৬৬ সালের ১লা জানুয়ারি তিনি মাদারীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিলো মাত্র ৫ বছর। তারপরও তিনি এই শিশু বয়সে কীভাবে মুক্তিযোদ্ধা ও মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী হলেন তা এক ঐতিহাসিক বিষ্ময়।
এরপর মাধ্যমিক পাশ করে কিছুদিন ভবঘুরের মতো ঘুরে তিনি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও ভুয়া গ্রাজুয়েশন সনদ দিয়ে ৭ই ডিসেম্বর ২০০৯ সালে সাব রেজিস্ট্রার পদে চাকরি বাগিয়ে নেন।
সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে তার প্রথম পদায়ন খুলনার তেরখাদা সাব রেজিস্ট্রার অফিসে। এরপর খুলনার ফুলতলা, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী, মুকসুদপুর, সদর সাতক্ষীরা, সদর মাগুরা, ধানমন্ডি ঢাকা, সদর কিশোরগঞ্জ ও রাজধানীর উওরাতে কর্মরত ছিলেন। সবখানেই ঘুষ দূর্নীতি আর দলিল বাণিজ্যের কারণে তিনি থাকেন সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।।
তবে লিগ্যাল সাব রেজিস্ট্রারদের চাকরির মেয়াদ ১০ বছর বর্ধিত হলেও কারো কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার ও ঘুষ দূর্নীতির মাস্টারমাইন্ড লুৎফর রহমান মোল্লার চাকরির মেয়াদ বর্ধিতর খবরে সচেতন এলাকাবাসী ও খোদ বিআরএস র কতিপয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দও প্রচণ্ড নাখোশ।
তাই এ বিষয়ে লুৎফর রহমান মোল্লার সমস্ত অবৈধ সম্পদের খোঁজ তল্লাশি নিতে দুদক এনফোর্সমেন্ট টিমে আইন উপদেষ্টার কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।।
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :