রাজবাড়ীতে দুর্গা পূজা যতই ঘনিয়ে আসছে, শিল্পীদের ব্যস্ততা ততই বাড়ছে


উজ্জ্বল চক্রবর্তী, রাজবাড়ী প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৫, ৪:৪০ অপরাহ্ন /
রাজবাড়ীতে দুর্গা পূজা যতই ঘনিয়ে আসছে, শিল্পীদের ব্যস্ততা ততই বাড়ছে

সোনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী শারদীয় দুর্গাপূজা। আর অল্প কিছুদিন পরেই শুরু হবে এ পূজা। পূজাকে ঘিরে তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা কারিগররা। খড়, কাঠ, সুতা আর মাটি দিয়ে নিপুণ হাতে তৈরি করছেন প্রতিমা। পূজা যতই ঘনিয়ে আসছে, শিল্পীদের ব্যস্ততা ততই বাড়ছে।
রাজবাড়ী শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি মণ্ডপে প্রতিমার মাটির কাজ শেষ হয়েছে। শুরু হয়ে গেছে রং ও সাজসজ্জার কাজ। দেবীকে সাজিয়ে তুলছে এক নতুন রূপে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে দুর্গা, স্বরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, অসুর, সিংহ, মহিষ, প্যাঁচা, হাঁস, সর্পসহ অন্যান্য প্রতিমা রঙের কাজ চলছে। রাত জেগে কাজ করছেন কারিগররা। মন্দিরে মন্দিরে চলছে ডেকোরেশনের কাজ।
শহরের বিনোদপুর শ্রী শ্রী সার্বজনীন শীতলা মন্দির (বারইপাড়া) গিয়ে দেখা যায় প্রতিমা শিল্পী বিনোদ পাল রংয়ের কাজ করছে। সারাবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এ বছর রাজবাড়ীতেই ছয়টি মন্দিরে কাজ পেয়েছি। এর মধ্যে তিনটির রংয়ের কাজ শেষ করে এই মন্দিরেরটা করছি। বাকি দু’টি মন্দিরের রংয়ের কাজ পূজার আগেই শেষ হয়ে যাবে। তবে সবকিছুর যে দাম সেই হিসাবে আমরা মজুরি পাচ্ছি না।’
জানা গেছে রাজবাড়ী জেলাতে এ বছর ৪৩৮টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রাজবাড়ী সদরে (পৌরসভাসহ) ১০৯টি, গোয়ালন্দ উপজেলায় (পৌরসভাসহ) ২৫টি, বালিয়াকান্দি উপজেলায় ১৪৯টি, কালুখালী উপজেলায় ৫৭টি, পাংশা উপজেলায় (পৌরসভাসহ) ৯৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পঞ্জিকা অনুযায়ী ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্যে দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী, ২৯ সেপ্টেম্বর সপ্তমী, ৩০ সেপ্টেম্বর অষ্টমী, ১ অক্টোবর নবমী এবং ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্যে দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার পরিসমাপ্তি ঘটবে।
নিরাপত্তা বিষয়ে রাজবাড়ী পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় সবধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাতে ও দিনে আমাদের টহল পুলিশ নিয়মিত ভিজিট করছে। পূজা নিয়ে যাতে গুজব না ছড়ায়- সেটা নিয়ে আমাদের একটি টিম কাজ করছে। উৎসব শুরু হলে প্রতিটি পূজা মণ্ডপে নিরাপত্তার জন্য আনসার, গ্রাম পুলিশ, পুলিশ মোতায়ন থাকবে। এছাড়া র‍্যাব, সেনাবাহিনীসহ সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে।’
জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, ‘আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব পালনের জন্য সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়েও কঠোর নজরদারি থাকবে। আমি বিভিন্ন মন্দির নিয়মিত পরিদর্শন করছি। আমরা মন্দির কমিটির সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। দুর্গাপূজায় যাতে সবার অংশগ্রহণ থাকে এবং শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় তার জন্য যা প্রয়োজন সেটা প্রশাসন করবে।

 

You cannot copy content of this page