
যশোরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়েছে।
রোববার বেলা ২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত প্রায় আড়াই ঘন্টা হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিটে দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আল-আমিনের নেতৃত্বে অভিযান চলে।
এতে ডিডি তহিদুল ইসলাম, ডিডি চিরঞ্জীব নিয়োগীসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতালের পক্ষে আরএমও ডা. হাবিবা সিদ্দীকা ফোয়ারা অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন।
অভিযানে হাসপাতালের রান্নাঘর, ডায়রিয়া ওয়ার্ড ও প্লাস্টার রুমে নানা অনিয়ম পাওয়া যায়। রান্নাঘরে রোগীদের জন্য নির্ধারিত মানের খাবারের পরিবর্তে নিম্নমানের উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়, নির্ধারিত চিকন চালের বদলে মোটা চাল, ছোট আকারের ডিম, নিম্নমানের লবণ, পেঁয়াজ ও রসুন ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ভাত ও পাউরুটির পরিমাণ কম সরবরাহ করা হচ্ছে।
ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১৬০ পিস স্যালাইন মজুদ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরের দোকান থেকে স্যালাইন কিনতে বলা হয়। প্লাস্টার রুমে আউটসোর্সিংয়ের বাইরে কর্মীরা প্লাস্টার সেবা দিয়ে রোগীদের কাছ থেকে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন বলে জানানো হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হোসাইন শাফায়েতকে বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, যশোর জেনারেল হাসপাতালে খাবার সরবরাহে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চলছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে টেন্ডার জটিলতার কারণে বর্তমানে রোগী প্রতি ১৭৫ টাকার বরাদ্দ থাকলেও ১২৫ টাকার পুরনো চুক্তি অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। ভ্যাট ও ট্যাক্স বাদ দিলে প্রতি রোগীর জন্য বরাদ্দ থাকে মাত্র ১১৩ টাকা, যার ফলে মানসম্মত খাবার সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না।
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :