
ইঞ্জিন সংকট ও যাত্রীদের টিকিট না কাটার প্রবণতার কারণে টানা ৭ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে ময়মনসিংহের জনপ্রিয় ট্রেন ‘জারিয়া লোকাল’। দীর্ঘদিন ধরে সকালের অফিসগামী, শিক্ষার্থী এবং স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষ এই ট্রেনের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। হঠাৎ করে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন হাজারো যাত্রী পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, যাত্রীদের বড় একটি অংশ নিয়মিত টিকিট না কেটে ট্রেনে যাতায়াত করতেন। ফলে পর্যাপ্ত রাজস্ব সংগ্রহ সম্ভব হচ্ছিল না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইঞ্জিন সংকট। একাধিক লোকাল ট্রেনের জন্য পর্যাপ্ত ইঞ্জিন বরাদ্দ না থাকায় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে জারিয়া লোকালের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনের মতো আজ (শুক্রবার) সকালেও নির্ধারিত ট্রিপ বাতিল করা হয়েছে।
ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় অনেককে বাধ্য হয়ে বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করতে হচ্ছে। যেখানে মাত্র ২০ টাকায় ট্রেনে ময়মনসিংহ থেকে নিকটবর্তী গন্তব্যে যাতায়াত করা যেত, সেখানে এখন যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির যাত্রীদের ওপর পড়ছে বাড়তি চাপ।
স্থানীয় যাত্রী রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা স্বল্প খরচে নিরাপদ ভ্রমণের জন্য ট্রেন ব্যবহার করি। কিন্তু এখন বাস বা সিএনজিতে যেতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।”
একইভাবে কলেজপড়ুয়া ছাত্রী মেহজাবিন জানান, প্রতিদিন ক্লাসে যাওয়া এখন কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। “ট্রেনে গেলে ভাড়া ছিল হাতের নাগালে। কিন্তু এখন প্রতিদিনের যাতায়াতে বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে, যা আমাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যাপ্ত টিকিট বিক্রির অভাব এবং ইঞ্জিন সংকট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জারিয়া লোকালের চলাচল পুনরায় শুরু করা সম্ভব নয়। তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে তারা।
স্থানীয়রা বলছেন, জারিয়া লোকাল শুধু একটি ট্রেন নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত একটি অপরিহার্য পরিবহন। তাই দ্রুত সমস্যার সমাধান করে ট্রেন চালু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :